ঢাকা | এপ্রিল ১৭, ২০২৬ - ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

  • আপডেট: Thursday, April 16, 2026 - 9:10 pm

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এই জনপদে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়াইদহ এলাকাসহ আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ নিজ উদ্যোগে এই সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। সড়াইদহ, লক্ষিকোলা, খোকশা হাট, পাইকড়া, শ্যামনাই ও ভুইয়াগাঁতীসহ অন্তত ৮-১০টি গ্রামের কৃষক, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। বর্ষাকালে সাঁকোটি আরও পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, পাশেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং এর বাইপাস সড়ক থাকা সত্ত্বেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, প্রতিদিন পণ্য আনা-নেওয়া করতে গিয়ে এই সাঁকো আমাদের মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। একটি স্থায়ী সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। বয়স্ক বাসিন্দা মো. শাহজাহান শেখ ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, বয়সের ভারে এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই সাঁকো পার হয়ে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খাঁন বলেন, করতোয়া নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রকৌশল বিভাগে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হককে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং খুব দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে এসেছে। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। ব্যাহত হচ্ছে, ভাড়া বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আগে যেখানে ভ্যান বা রিকশায় ১৫ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। রূপসী গ্রামের বাবুল হোসেন, সোনাতলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম এবং গোপীনাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী হাজী আবুল হোসেন বলেন, দেড় বছর ধরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। জরুরি রোগী নিয়েও হাসপাতালে যেতে পারছি না। এভাবে আর কতদিন চলবে?

এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে হিমশিম খাচ্ছে এবং তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে পাকাকরণ করা হোক এবং প্রস্তাবিত মহাসড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ও কৈজুরী-বেড়া সড়ককে সংযুক্ত করে পাবনা পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পের পাশাপাশি বড়াল নদীর ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির সংশোধিত নকশা ইতোমধ্যে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।