ঢাকা | এপ্রিল ১৬, ২০২৬ - ১০:৫০ অপরাহ্ন

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম করে বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ

  • আপডেট: Tuesday, September 9, 2025 - 8:55 pm

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেখিয়ে এক ছাত্রীকে উপবৃত্তি পাইয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েন প্রধান শিক্ষিকা নাজমা পারভীনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষিকা নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের যোগসাজশে বছরের পর বছর তিনি এই অনিয়ম করে যাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপবৃত্তি পাওয়া ওই শিক্ষার্থী একই সাথে দুইটি শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রয়েছে। সে সরকারি এই বিদ্যালয়ে পাশাপাশি ভান্ডারপুর আলফা কেজি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াাশোনা করছে। এবং সেখানেই নিয়মিত উপস্থিতি তার। অথচ দুই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া এই ছাত্রী, বালুপাড়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও উপবৃত্তি পাচ্ছে। অনুপস্থিত ঐ ছাত্রীকে হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখিয়ে বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা হাজিরা জালিয়াতির মাধ্যমে অনুপস্থিত ওই ছাত্রীকে ৩য় শ্রেণি থেকে আজ পর্যন্ত হাজিরা খাতায় নিজেরা স্বাক্ষর দিয়ে উপবৃত্তি পাইয়ে দিচ্ছেন। চতুর্থ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ নম্বর ১৯৭৫ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সে। নিয়মিত না আসার বিষয়টি প্রকাশ পেলে আয়েশা সিদ্দিকাকে ৫ম শ্রেণিতে ১৯ নং রোল নম্বরে উত্তীর্ণ দেখায় আর ১৭৬০ পাওয়া সিফাত হোসেনকে ১ নং রোল দেখায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ভান্ডারপুর আলফা কেজি স্কুলে প্লে থেকে পড়াশুনা করছে। ২০২৩ সালে ৩য় শ্রেণিতে উঠার পর বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা পারভীনের সহযোগিতয় এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় ঐ শিক্ষার্থী। ২০২৩ সাল থেকে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হলেও বালুপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে আসতো না ঐ শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করত। এদিকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলেও প্রধান শিক্ষিকা নাজমা পারভীন ক্লাস শিক্ষকদের দিয়ে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতেন।

এভাবে ৩য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বৃত্তি পাচ্ছে ভান্ডারপুর আলফা কেজি স্কুলের নিয়মিত ওই ছাত্রী। অপরদিকে বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার পর ওই শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১৯৭৫ নম্বর পেয়ে ক্লাসে ফার্স্ট হয়। বিদ্যালয়ের না আসার বিষয়টি জানাজনি হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলামের সাথে আলোচনা করে অন্য এক ছাত্র সিফাত হোসেন যার প্রাপ্ত নম্বর ১৭৬০ কে ক্লাসে প্রথম দেখিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ওই শিক্ষার্থীকে ১৯ নং রোল নম্বরে দেখায়।

এলাকাবাসী বলেন, একইসাথে একটি সরকারি বিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেনে নাম লিখিয়েছে। এই শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্ডেন এ নিয়মিত স্কুল করলেও বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না গিয়ে শুধুমাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। অভিভাবকরা বলছেন, সঠিক তদারকি না থাকায় এ ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। ওই শিক্ষার্থী জানায়, আমি পারিচা নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করি। দিপু স্যারের স্কুলে প্লে থেকে পড়ছি। আর কোন স্কুলে ভর্তি আছো কি না জানতে চাইলে সে বলে বালুপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা স্বীকার করে। কিন্তু সেখানে যাই না, ক্লাসও করি না।

আলফা কেজি স্কুলের পরিচালক দিপু বলেন, সে এখানে অনেক আগে থেকে পড়ছে। ঐ স্কুলের আর এক শিক্ষিকা জানান, আলেফা স্কুলে সে প্লে থেকে এই পড়ছে। এবং স্কুলে সে প্রতিদিন আসে। তার রোল নম্বর ১। বিগত ২০২৪ সালের ৪র্থ শ্রেণির হাজিরা ব্যপারে জানতে চাইলে বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েন সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান জানান, ওর মা বলেছিলো যে কিছু সাক্রিফাইস করেন। মাঝে মাঝে ঐ শিক্ষার্থী আসতো। এ ব্যাপারে হেড মাস্টার বলেছে আপনি বিষয়টি দেখেন, যেহেতু আসবে না, আসতে পারছে না। এই ভাবেই হাজিরা তুলে দিয়েছি। জানতে চাইলে বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা পারভীন বলেন, ওই শিক্ষার্থী রেগুলার স্কুলে আসতো না। খোঁজ নিয়ে দেখি সে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

তখন তার মাকে জানানো হয় এক সাথে দুটো স্কুলে চালানো সম্ভব নয়। এবং যেকোনো একটি স্কুলে রাখতে বলি। তার মা ট্রান্সফার করে দিতে বললে আমি ট্রান্সফার করে দিতে চাইছি। কিন্তু অনলাইনে ট্রান্সফার অপশন পাইনি তাই ট্রান্সফার করিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, একজন শিক্ষার্থী এক সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করতে পারে না। এটি নিয়মবিরোধী। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।