বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘পৃষ্ঠপোষক’ রাশেদ নিয়োগ পেলেন রাবির তথ্য অফিসার পদে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরে অনুসন্ধান কাম তথ্য অফিসার পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের পৃষ্ঠপোষক রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাশেদ রাজন।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেয়া হয়। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘তাঁকে কোনো কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।’
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরে টাকা ২২,০০০-৫৩০৬০/- বেতনস্কেলে মাসিক টাকা ২৩,১০০/- ( তেইশ হাজার একশত) টাকা মাত্র বেতনে অনুসন্ধান কাম তথ্য অফিসার পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে ০৬ (ছয়) মাসের জন্য নিয়োগ করা হলো। এ নিয়োগ যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকাশনা দপ্তরে উপ-রেজিস্ট্রার পদে স্থানান্তরের পর সাদেকুল ইসলাম-কে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জনসংযোগ দপ্তরে দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সিন্ডিকেটে চাকরি সম্পর্কে যে সকল শর্ত বলবৎ আছে সেগুলোও তাঁর চাকরি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং যোগদানপত্রের সাথে তাঁকে রাজশাহী সিভিল সার্জনের নিকট হতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় ২.৭৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। একই বিভাগ থেকে তিনি ২০২০ সালে ৩.০৭ পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর বাসা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন গত ২৯ জুলাই রাজশাহী নগরের কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে আইন-ৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন রাশেদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে ৩১ জুলাই তাঁকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সভা সেমিনারে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো একটি সেক্টরে লোকবল প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সেক্টরটি উপাচার্যের কাছে লোকবল নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র দেন। তবে নিয়োগ সাকুলার দিতে বিলম্ব হলে উপাচার্য জরুরি ভিত্তিতে এ্যাডহক নিয়োগ দিতে পারেন। তবে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দিতে হবে।
নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন বলেন, ‘এটি একটি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য নিয়োগ দিয়েছে।’ তাঁকে কোনো কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাবি প্রশাসন কোন সার্কুলার দিয়েছিল কিনা আমরা জানি না। সমন্বয়কদের কোন কোটায় চাকুরি দিচ্ছে সেটাও আমাদের বোধগম্য নয়। কাউকে পুরস্কৃত করছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার বিষয়। চাকুরির একমাত্র মানদণ্ড হোক মেধা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
এ নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘উপাচার্যের আদেশেই রাশেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে এ্যাডহক ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মিডিয়ার ব্যাপারে তাঁর যে জানা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে সে জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। আমি আমার বিবেচনায় রাশেদ রাজনকে নিয়োগ দিয়েছি। আমার ধারণা তিনি তাঁর যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।’











