ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ৩:০০ অপরাহ্ন

জীবনের প্রথম ভোট নৌকায় দিতে উদগ্রীব রাজশাহীর তরুণরা

  • আপডেট: Friday, January 5, 2024 - 9:19 pm

জগদীশ রবিদাস: রাত পোহালেই ভোট। দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলছে ক্ষণগণনা। ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র একদিন। শহর থেকে গ্রাম, দেশ থেকে বিদেশ, সর্বত্রই আলোচনায় এখন নির্বাচনি ইস্যু। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেয়ার এক মহাউৎসবে মজতে চলেছে পুরো দেশ। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটাররাও ভোট দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই উত্তরের জেলা রাজশাহীও। বিশেষ করে রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে নির্বাচনি আমেজ তুঙ্গে। এই শহরে পুরনো ভোটারদের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন নতুন ভোটার। তাদের বড় অংশই বয়সে তরুণ এবং জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মূলত তরুণরাই এবারের নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ; তাই রাজনৈতিক দলগুলোর টার্গেটও তারাই। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে তাদের আগ্রহ একটু বেশি। নির্বাচন নিয়ে মহানগরীর তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা নিজেদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন সোনালী সংবাদের কাছে।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনি ডামাডোলে প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ব্যক্তি, দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে নতুন ও তরুণদের মধ্যে বইছে আলোচনার ঝড়। সংবিধান মতে, দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে কারও বয়স ১৮ বছর উত্তীর্ণ হলেই ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার অধিকার রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন তালিকা অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর নিয়ে গঠিত আসনে এবার ৩০ হাজার ১৫৭ জন তরুণ-তরুণী প্রথম ভোট দেবেন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে এবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ এবং নারী এক লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন। নতুন ভোটার ৩০ হাজার ১৫৭ জন। আগামীকাল ৭ জানুয়ারি ভোট দেয়ার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

রাজশাহী মহানগরীর নতুন ভোটারের অধিকাংশই এই নির্বাচনে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে নেতৃত্বের ব্যাপারে যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে এগিয়ে রেখেছেন তারা। অনেকে নিজেদের মতামত আরও খোলামেলাভাবে ব্যাখা করেছেন ‘নৌকায়’ ভোট দেয়ার কথা বলে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, উন্নয়ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি ও তরুণ প্রজন্মের জন্য কার্যকরী নানা পদক্ষেপ নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে নৌকার পক্ষে। ইতিমধ্যেই নানা নির্বাচনি জনসভায় শেখ হাসিনা নিজেই নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকায় ভোট চাওয়ার বিষয়টিও নতুন ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক হিসেবে সাড়া ফেলেছে। সবমিলে ‘নৌকা’ প্রতীক রেখে অন্য কোন প্রতীকে ভোট দেয়ার কথা ভাবছে না অধিকাংশ নতুন ভোটার।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত দিয়ে শহরের ডাবতলা এলাকার নতুন ভোটার ও শিক্ষার্থী তুষার হাসান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে প্রথম ভোট দেব, এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে। আমি আমার ভোটে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করব, যাতে আমার এলাকায় উন্নয়ন হয়। প্রিয় শহর রাজশাহী যেন আরও এগিয়ে যায়। আমার প্রত্যাশা, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হবে যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। সর্বোপরি অব্যাহত থাকুক দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা।

বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী ও কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৌরভ ঘোষ বলেন, প্রথম ভোট গত সিটি নির্বাচনে দিয়েছি। কিন্তু সংসদ নির্বাচনে এবার প্রথমবার ভোট দেয়ার সৌভাগ্য হবে। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অবকাঠামোর অনেক উন্নয়ন হয়েছে রাজশাহীতে। বিশেষ করে শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে অতুলনীয় উন্নয়ন হয়েছে; সেটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন রাজশাহীর প্রাইমারি স্কুলগুলো এতোটা উন্নত ছিল না। এখন সব স্কুল নতুন নতুন ভবন দেখে ভালো লাগে। আমাদের কলেজগুলোরও চেহারা বদলে গেছে। তাই আমি চাইবো, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। কারণ চলমান ধারাবাহিকতা ব্যহত হলে উন্নয়নযাত্রও ব্যহত হয়। সেটি আমরা চাই না। প্রত্যাশা করি, নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর হবে।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই মন্তব্য করে নগরীর পাঠানপাড়া এলাকার শিক্ষার্থী এলিজা পারভিন বলেন, ভোট দেয়া সাংবিধানিক অধিকার। যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, আমি মনে করি তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমি ছোট থেকে দেখেছি- আমাদের পরিবার সবসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষে থেকেছে। সেই সুবাদে আমিও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকেই ক্ষমতায় দেখতে চাই। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জয় নিশ্চিত করবে তরুণ ভোটাররা; এটাই আমার চাওয়া। আমার প্রত্যাশা, তরুণরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তথা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করবে।

সোনালী/জেআর