ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী বিভাগে দু’মাসে বজ্রপাতে প্রাণহানি ২৫ জনের

  • আপডেট: Friday, July 7, 2023 - 4:00 pm

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৩ সালের মে থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দুই মাসের বেশি সময় রাজশাহী বিভাগে বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটেছে ২৫ জনের। এতে আহত হয়েছেন আরো অনেকে।

বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ জেলায়। এই জেলায় প্রাণ গেছে মোট ছয়জনের। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে তিনজন, পাবনায় তিনজন, রাজশাহীতে দুইজন, বগুড়ায় দুইজন, জায়পুরহাট ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন। মৌসুমের শুরুতেই বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে অবহেলা নয়, সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বৃষ্টির সময় যতটা সম্ভব ঘরে অবস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে বেশি করে তালগাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ১৮ জুন বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে বজ্রপাতে সাহাবুল হোসেন (২৬) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহত সাহাবুল হোসেন রাজশাহী কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত ২ জুলাই নগরীর বড় বনগ্রামের শেখপাড়ার জিয়াউল হকের ছেলে আতিক হাসান জয় (১৭) ও লালপুর উপজেলার আব্দুলপুরে ছোলাইমান ইসলামের ছেলে বোরহান কবিরের-(৩৫) মৃত্যু হয়।

১১ মে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বজ্রপাতে রহমত আলী জোহা (১০), ২১ জুন বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে ফাতেমা বেগম (৩০), ৪ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় জাহাঙ্গীর (৪০), রফিকুল ইসলাম (৩৫), ইসারুল ইসলাম (৪২), ৩ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ওমর আলী, শরিফুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও ১০ মে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩৫), ২৭ মে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুলতান প্রামাণিক (৬০), ২১ জুন সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে মাহমুদুর রহমান রিয়াদ (২১), ১৭ মে পাবনার ঈশ্বরদীতে বজ্রপাতে সজিব হোসেন (২৫), ২৪ মে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বজ্রপাতে শাকিল হোসেন (১৯), রমিজ উদ্দিনের (৩০) মৃত্যু হয়।

২৩ মে নওগাঁর রাণীনগরে জামিল প্রামাণিক (২০), ১৭ জুন নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে খাদেমুল ইসলাম (৪৫), মোতাহার হোসেন (৩৫), মাসুদ রানার (১৯) মৃতু্য হয়। ২১ জুন নওগাঁর রাণীনগরে বজ্রপাতে সামিউল (১০) ও রিফাত (৩) এবং ১৭ জুন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বজ্রপাতে রনি মিয়ার (২৬) মৃত্যু হয়।

নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, তালগাছ বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাটির ক্ষয়রোধ এবং পানির স্তর ধরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

গত ৩ বছরে নিজস্ব অর্থায়নে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কে আড়াই লাখ তালবীজ রোপণ করেছি। যেখানে বর্তমানে এক লাখের বেশি তালগাছ দৃশ্যমান। তালগাছ রোপণে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক হিসেবে সবার এগিয়ে আসা উচিত। তাহলেই দেশ থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসবে।

বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৪০ লাখ তালগাছ লাগিয়েছে দাবি করে বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য তালগাছ লাগানোর কথা। সেই সময় থেকে তালগাছ লাগানো শুরু হয়।

বর্তমান সরকারের গত ১৪ বছরে সবচেয়ে বেশি তালগাছ লাগানো হয়েছে। সবশেষ ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের দিকে রাজশাহী বিভাগের সব জেলা ছাড়াও রংপুর ও দিনাজপুরে তালগাছ লাগানো হয়। এখন অনেক তালগাছ বড় হয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে আমরা এর সুফল পাচ্ছি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এ জেড এম শোয়েব বলেন, ‘মূলত বীক্ষণ শক্তি না থাকার ফলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বজ্রপাত যখন হয়, তখন আকাশ থেকে বিদ্যুৎ মাটির দিকে ধেয়ে আসে। বিদ্যুৎ বীক্ষণ না হলেই তখন মানুষ বা গাছের ওপর সেটা পড়ে। অনেক সময় বিল্ডিংয়ের ওপরও পড়তে দেখা যায়। বিল্ডিংগুলোতে পড়লে মানুষের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। তবে বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে থাকলে সমস্যাটা বেশি হয়। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। বৃষ্টির সময় বাইরে না থেকে ঘরে অবস্থান করতে হবে।’

সোনালী/জেআর