ঢাকা | এপ্রিল ১৬, ২০২৪ - ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

ঈদের চারদিনে পাহাড়পুরে দেড় লাখ পর্যটকদের পদচারণা

  • আপডেট: Saturday, May 7, 2022 - 10:28 pm

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ঈদের চারদিনে বিশ্ব ঐতিহ্য দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নওগাঁর বদলগাছীর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে (সোমপুর বিহার) প্রায় দেড় লাখ পর্যটকরা ভ্রমণ করেছের। মহামারি করোনাভাইরাসের সঙ্কট কেটে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও নতুন করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গন। আর ঈদের এই চার দিন পাহাড়পুর বাজার হইতে বৌদ্ধ বিহার ও জামালগঞ্জ বাজার হতে এই বিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় দর্শনার্থীদের ভিড়ে যানজট লেগে থাকে।

এই পাহাড়পুরে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকসহ দেশের বিশিষ্টজনরা বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে চালু হওয়া ট্যুরিস্ট বাস ভ্রমণ বিলাস নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের মাঝে এক নতুন মাত্রার যোগ এনে দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিহার এই পাহাড়পুর। এর আদি নাম সোমপুর বিহার। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত এটি। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি মূলত পাল রাজ্যত্বের রাজধানী ও সেই সময়ে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। এখানে সে সময় ভিক্ষকুরা পড়ালেখা করতো। নওগাঁ শহর থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব প্রায় ৩৪কিলোমিটার।

এখানে সারা বছর দেশ ও বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ঘরে বন্দি থাকায় এই ঈদে খোলা পেয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক দর্শনাথীরা পাহাড়পুরে এসেছেন। বিগত সময়ের তুলনায় এই ঈদে দর্শানার্থীদের আগমন রের্কড পরিমান। আগের চেয়ে অনেক আধুনিকায়ন হওয়ায় পাহাড়পুরের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ জনক দর্শনার্থীরা। গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আগমন বেশি হবে বলে আশা করছেন বৌদ্ধ বিহারের কর্তৃপক্ষ।

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সত্যিই পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারটি খুবই সুন্দর। তবে এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের খুবই সমস্যা। কিন্তু আজকের দিনে এমন ঐতিহাসিক স্থানে এমন সমস্যা সত্যিই খুবই দু:খ্যজনক। এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমি এখানে এই প্রথম আসলাম। হাজার বছর আগের বিহারটি দর্শন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আর এখানে যে এতো পর্যটকের সমাগম এর আগে আমি কোথাও কোথাও দেখিনি।

অপরদিকে, গত শুক্রবার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. আইটিও নাওকি। বিহারটির ছোট ছোট স্থাপনা, বৌদ্ধ ভিক্ষুক কক্ষ ও টেরাকোটাসহ সার্বিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারনা নেন তিনি। সে সময় রাষ্ট্রদূতকে এসব স্থাপনা ঘুরে দেখান বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু ও সাথে ছিলেন বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম।

জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. আইটিও নাওকি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে বিশ্বের বিশ্বয় উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখানে দেখবার ও জানবার অনেক কিছু আছে। তাই এটি পরিদর্শনের জন্য তিনি জাপানসহ বিশ্ববাসীকে আহ¦ান জানন।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, পাহাড়পুরের ইতিহাসে এতো রের্কড পরিমাণ দর্শনার্থী কখনোই হয়নি। আমরা সীমিত লোকজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের মানসম্মত সেবা প্রদানের চেষ্টা করে চলেছি। এতো দর্শনাথী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই আবার বিহারের প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করছে। আমি আশাবাদী আগামী শনিবার পর্যন্ত দর্শকদের উপস্থিতি একই রকম থাকবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আতাউর রহমান বলেন, দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলোকে আরো আধুনিকায়ন করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগের পাহাড়পুর কি ছিলো আর এখন কেমন পরিবর্তন করা হয়েছে। অতিদ্রুত পাহাড়পুরের জনবল সঙ্কটসহ নানা সমস্যা সমাধান করে এটিকে পর্যটকদের কাছে আরও আর্কষনীয় করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করা হবে। দেশের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারের অচিরেই সেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।