ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ২:০৯ পূর্বাহ্ন

হিমাগারে পঁচল কৃষকের আলু

  • আপডেট: Wednesday, April 20, 2022 - 8:41 pm

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি হিমাগারে রাখা কৃষকের বিপুল পরিমাণ আলুতে পঁচন ধরেছে। পবার মদনহাটি এলাকায় অবস্থিত ‘আমান কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’ এ এমন ঘটনা ঘটেছে। কয়েক শো কৃষক ও ব্যবসায়ী কোল্ড স্টোরেজটিতে গতমাসেই আলু রেখেছিলেন।

হিমাগার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এখানে ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু আছে। প্রতিটি বস্তায় আলুর পরিমাণ ৫০ কেজি। বর্তমানে ৫০ কেজি আলুর বস্তার দাম ৬০০ টাকা। সব আলু পঁচে গেলে ক্ষতির পরিমাণ ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। চাষিদের দাবি, সব আলুই পঁচে গেছে। চাষিরা বলছেন, বস্তায় একটা আলু পঁচে যাওয়া মানেই সব আলু নষ্ট হওয়া। এগুলো আর খাওয়ার উপযোগী নয়। এই হিমাগারে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

বুধবার সকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ঘর থেকে আলুর বস্তা বের করে স্টোরেজের ভেতরেই বাতাস দেওয়া হচ্ছিল। তখনই কৃষকরা আলু পঁচে যাবার কথা জানতে পারেন। এরপর ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকের হিমাগারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে হিমাগার কর্তৃপক্ষ আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর কৃষকেরা শান্ত হন।

বিকালে হিমাগারে গিয়ে দেখা গেছে, যে বস্তা খোলা হচ্ছে সেখান থেকেই বের হচ্ছে পঁচা আলু। হিমাগারের সামনে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, হিমাগারের গ্যাস মেশিন খারাপ থাকার পরেও আলু লোড করা হয়েছে। তীব্র গরমে দুর্বল মেশিন ঠিকমত গুদাম ঠাণ্ডা রাখতে পারেনি। ফলে কৃষকের আলু পঁচে গেছে। এগুলো আর বাজারে বিক্রির উপযোগী নয়।

আলু ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, আমি ৭ হাজার বস্তা আলু রেখেছিলাম। এখন জানতে পারছি সব আলু পচে গেছে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আমি পথে বসে যাব। তিনি জানান, মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত হিমাগারে আলু রাখেন কৃষকেরা। এ জন্য বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আলুর বস্তা বের করার সময় টাকা দিতে হয়।

রানা সর্দার নামের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, গতবছর আমি এই কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেছিলাম। বিক্রি করার পর ক্রেতারা অভিযোগ করেন যে আলুর মান ভাল না। নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার সব আলু অন্য হিমাগারে রেখেছেন। শুধু একটা ট্রলি ভুল করে আমানে ঢুকে পড়েছিল বলে সে ট্রলির ৫৭ বস্তা আলু এখানে রাখা হয়েছিল। এগুলো সব পঁচে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিমাগারের ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আলু নানা কারণেই পঁচতে পারে। আলুর মান খারাপ হলেও পঁচে যায়। কেন পঁচেছে তা জানি না। কী পরিমাণ পঁচেছে সে হিসাবও করা হয়নি।’ চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মালিকের এটা একদিনের ব্যবসা না। কীভাবে কী করা যায় তা দেখছি।’