ঢাকা | জুলাই ১৯, ২০২৪ - ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

দিনে ফসলি খেত সকালে পুকুর!

  • আপডেট: Saturday, March 12, 2022 - 9:37 pm

এইচ এম শাহনেওয়াজ, পুঠিয়া থেকে: রাজশাহীর পুঠিয়ায় তদারকির অভাবে ফসলি খেত গুলোতে পুকুর খননের হিড়িক চলছে। এলাকাবাসীরা বলছেন, আইনি জটিলতা এড়াতে জমির মালিকরা ক্ষমতাসিন দলের দুইজন রাজনৈতিক নেতার সাথে বিশেষ চুক্তি করেন। এরপর পুকুরের খনন কাজ চলে রাতের আধাঁরে বাতি জ্বালিয়ে। ফসলি জমি রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের দপ্তরে অবহিত করা হলেও তারা রহস্যজনক কারণে প্রতিরোধে এগিয়ে আসছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুনাহার ভুইয়া বলেন, গত তিন বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর ফসলি জমিতে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী পুকুর খনন করা হয়েছে উপজেলার শিলমাড়িয়া ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন এলাকাতে। এ বছরের শুরুতে আবারো বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে চাষিরা জলাবদ্ধতা বা নিচু পরিত্যাক্ত জমিতে মাছ চাষের উপযোগি হিসাবে তৈরি করতে চাইলে কৃষি অফিসসহ কয়েকটি দপ্তরে আবেদন করবেন। সে আবেদন যাচাই-বাচাই শেষে অনুমোদন হলে উল্লেখিত জমিতে খনন বা সংস্কার কাজ করতে পারবেন। তবে এখানে কোনো জমির মালিক সে নিয়ম মানছেন না। তারা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ফসলি জমিতে রাতারাতি পুকুর খনন করছে।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, গত কয়েক বছরে এই উপজেলায় ফসলী জমি গুলোতে শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে। আর এক একটি পুকুর ৫০ থেকে ১৫০ বিঘা জমি নিয়ে খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর কয়েকটি স্থানে নতুন করে পুকুর খনন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, পুকুর মালিকরা স্থানীয় ইটভাটার সাথে চুক্তি করে খননকৃত মাটি অবৈধ ট্র্যাক্টর দিয়ে সরবরাহ করেছেন। এতে করে গ্রামীণ সড়ক চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ ও জেলার বিভিন্ন সভায় অবহিত করেও কোনো সুফল আসছে না।

ভালুকগাছি এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সকল এলাকার পুকুর খনন হচ্ছে মোটা অংকের চুক্তিতে। আর খনন কাজে মদদ করছেন ক্ষমতাসিন দলের দুইজন প্রভাবশালী নেতা। ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধের বিষয়ে কয়েকটি গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছি। কয়েকদফা পুলিশ প্রশাসনকে অবহিতও করেছি। কিন্তু তারা রহস্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করছেন। যার কারণে ফসলি খেতে খনন কাজ বন্ধ হয় না। এখন জমির মালিক ও মৎস্য চাষিরা রাতের আধাঁরে পুকুর খনন করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছেন। যেখানেই পুকুর খননের চেস্টা করা হচ্ছে সেখানেই পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।