ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১২:১৫ অপরাহ্ন

যেভাবে দেশে ফিরলেন নাবিকরা, প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন কৃতজ্ঞতা

  • আপডেট: Wednesday, March 9, 2022 - 8:08 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন ইউক্রেনের যুদ্ধে আটকা পড়া থেকে মুক্তি পাওয়া বাংলা সমৃদ্ধির নাবিকরা। তারা আজ সুস্থভাবে দেশে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তারা।

একই সঙ্গে সহকর্মী ও জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান ফিরে আসা নাবিকরা।

আজ বুধবার দুপুরে টার্কিশ এয়ারের একটি বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামে বাংলার সমৃদ্ধির ২৮ নাবিক। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাহাজটির মাস্টার ক্যাপ্টেন জি এম নূরে আলম।

তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, কূটনীতিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা আর ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের তখনকার অবস্থা সাংবাদিকদের বর্ণনা করেন মাস্টার ক্যাপ্টেন।

জি এম নূরে আলম বলেন, ‘অনেক বড় বড় দেশের জাহাজের নাবিকরা ইউক্রেন বন্দরে আটকা আছেন। তারা এখনো উদ্ধার হতে পারেননি। আমরা সৌভাগ্যবান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কূটনীতিকরা পরিশ্রম ও চেষ্টা করে আমাদের দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।’

সুস্থভাবে দেশ ফিরতে পারায় তারা এবং তাদের স্বজনরা অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান মাস্টার ক্যাপ্টেন। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও অস্ট্রিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কঠোর পরিশ্রম করেছে। ফলে আমরা দ্রুত দেশে পেরেছি।’ এটা তাদের কাছে অকল্পনীয় ছিল বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি তুরস্ক থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রওনা দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ২৪ তারিখ সকালে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকা পড়ে জাহাজটি।

সাত দিন পর গত ২ মার্চ জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়। এতে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন। তিনি এ সময় জাহাজের ওই স্থানে ওঠে ফোনে কথা বলছিলেন।

ইউক্রেনের বন্দরে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে হামলার সময়ের কথা বর্ণনা করে মাস্টার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘আমরা তখন নিয়মিত ডিউটিতে ছিলাম। বিকেলে হামলার পর জাহাজের ব্রিজে আগুন লেগে যায়। প্রথমে আমরা নিজেরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করি এবং একসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

জি এম নূরে আলম বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সাহস দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফোন করে আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেন। দেশবাসী আমাদের জন্য অনেক দোয়া করেছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।’

তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবস্থা করে বলে জানান মাস্টার ক্যাপ্টেন। বলেন, ‘আমরা সেখানে (ইউক্রেনে) দেখেছি প্রায় ৬০ কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে রিফিউজিরা সীমান্ত পার হচ্ছে। কিন্তু আমাদের হেঁটে পার হতে হয়নি।’

জাহাজে হামলায় নিহত সহকর্মী থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মরদেহ হিমঘরে রেখে আসা হয়েছে। জি এম নূরে আলম বলেন, ‘অত্যন্ত গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি আমাদের সহকর্মী ও থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মৃত্যুতে। আমরা তার মরদেহ হিমঘরে রেখে এসেছি। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনে রাখা বিধ্বস্ত জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

গত ২ মার্চ রকেট হামলার পর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় হাদিসুরের মরদেহসহ জীবিত ২৮ জনকে ৩ মার্চ উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের রাখা হয় বন্দরসংলগ্ন একটি বাংকারে।

গত ৫ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুরে বাংকার থেকে বেরিয়ে মালদোভার পথে যাত্রা করেন ২৮ নাবিক। ৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে তারা ইউক্রেন সীমান্ত পার হন। এরপর মালদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় ২৮ নাবিককে নিয়ে দেশের পথে রওনা দেয় টার্কিশ এয়ারের ফ্লাইটটি। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ট্রানজিট হয়ে আজ দুপুরে বিমানটি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী দেশে ফেরা ২৮ নাবিক হলেন- জি এম নুর ই আলম, মো. মনসুরুল ইসলাম খান, সেলিম মিয়া, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, মো. রোকনুজ্জামান রাজীব, ফারিয়াতুল জান্নাত তুলি, ফয়সাল আহমেদ সেতু, মো. ওমর ফারুক, সৈয়দ আশিফুল ইসলাম, রাজীবুল আউয়াল, সালমান সরওয়ার সামি, ফারজানা ইসলাম মৌ, মো. শেখ সাদী, মো. মাসুদুর রহমান, মো. জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মো. আমিনুর ইসলাম, মো. মোহিন উদ্দিন, হোসাইন মোহাম্মদ রাকিব, সাজ্জাদ ইবনে আলম, নাজমুল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম, সারওয়ার হোসাইন, মো. মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ হোসাইন, মো. আতিকুর রহমান, মো. শফিকুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।