অসুস্থ দাদিকে দেখতে ভারতে যাচ্ছেন রাবেয়া, সহায়তায় সহকারী হাইকমিশনার
স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসাধীন ও শয্যাশায়ী শতবর্ষী দাদিকে শেষবারের মতো দেখার আকুল ব্যাকুলতায় প্রহর গুণছিলেন নাতনি রাবেয়া খাতুন। কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসার তালিকায় নাম না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিল তাঁর এই আবেগঘন যাত্রা।
এমন পরিস্থিতিতে উদ্ভূত মানবিক বিষয়টি সর্বোচ্চ সহানুভূতি ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে ভিসার ব্যবস্থা করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ফিরোজাবাদ এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বাবলাবোনা এলাকায় তাঁর শতবর্ষী দাদি মাজেরা বেওয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবনসায়াহ্নে রয়েছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দাদি শেষবার তাঁর নাতনি ও সন্তানদের দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাবেয়া পাসপোর্ট করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ট্যুরিস্ট ভিসার চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় চরম হতাশায় পড়েন তিনি। পরবর্তীতে মানবিক দিক বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে ভিসার আবেদনের জন্য ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাবেয়া। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জরুরি জেনে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দেন।
গত মঙ্গলবার সকালে রাবেয়াকে নিজস্ব কার্যালয়ে ডেকে পাঠান সহকারী হাইকমিশনার। সেখানে তিনি অত্যন্ত মনোযোগ ও সহানুভূতির সঙ্গে পরিবারের এই আবেগঘন পরিস্থিতির কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ে ভিসা প্রদানের নিশ্চিত আশ্বাস দেন। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বুধবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন রাবেয়া খাতুন।
সহকারী হাইকমিশনারের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবেগাপ্লুত রাবেয়া খাতুন বলেন, আমার শতবর্ষী দাদি জীবনসায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আমাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছেন। তালিকায় নাম না থাকায় ভেবেছিলাম হয়তো সেই ইচ্ছা আর পূরণ হবে না। কিন্তু ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমার কথা শুনেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এই মহানুভবতা ও মানবিক সহযোগিতার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











