উৎসবের অপেক্ষায় রাজশাহী: প্রতিমাপল্লিতে ব্যস্ততা, মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা
স্টাফ রিপোর্টার: শারদীয় দুর্গোৎসব ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর প্রতিমাপল্লিগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ ও চরম ব্যস্ততা চলছে। দিন-রাত এক করে মৃৎশিল্পীরা মাটির ফিনিশিং, নিখুঁত নকশা ফুটিয়ে তোলা, হাত-পায়ের আঙুল অবয়ব দান এবং কাঠামোর ফাটল জোড়া দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মহালয়ার দিন যত এগিয়ে আসছে, কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা তত বাড়ছে শিল্পীদের। নগরীর আলুপট্টি এলাকার প্রবীণ মৃৎশিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল এবার মোট ২৮টি প্রতিমা তৈরি করছেন, যার মধ্যে ২১টি স্থান পাবে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন মণ্ডপে। অবশিষ্ট প্রতিমাগুলো নওগাঁ, বাগমারা, বাঘা ও রাজাবাড়ী মন্দিরসহ আশপাশের নানা অঞ্চলে পাঠানো হবে।
বাপ-দাদার হাত ধরে এই শিল্পে আসা কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, দীর্ঘ ৩৫-৩৬ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি টানা ২৬ বছর ধরে রাজশাহীতে নিজের মৃৎশিল্প ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের বৈশাখ মাস থেকে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই কাজের এখন শেষ মুহূর্তের রূপদানের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর অধীনে আরও কয়েকজন সহকারী শিল্পী দিন-রাত কাজ করছেন।
তিনি জানান, মহালয়ার আগেই প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে দ্রুত রঙের কাজ শুরু করতে হবে এবং পরবর্তীতে দেবী দুর্গাকে পোশাক ও অলংকারে সজ্জিত করা হবে। প্রতিমাগুলো নিরাপদে মণ্ডপে না পৌঁছানো পর্যন্ত শিল্পীদের মনে এক ধরনের ঝুঁকি ও দুশ্চিন্তা থেকে যায়। তবে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, অতীতের মতো এবারও হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই উৎসব উদযাপন সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে মণ্ডপে প্রতিমা সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে একযোগে কাজ করার কথা জানিয়েছেন শিল্পী অরুণ কুমার পাল।
অন্যদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে মহানগরীজুড়ে উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক প্রস্তুতি গড়ে উঠেছে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী মহানগর সভাপতি অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস সান্টু জানান, গত বছর রাজশাহী মহানগরে ৭৭টি পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫টিতে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারের কাছে যাবতীয় তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রতিমা তৈরির স্থান ও মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি ও মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, ৮৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুসারে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে সূচনা হবে দেবীর আবাহন। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও ২০ অক্টোবর মহানবমীর পর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই শারদীয় দুর্গোৎসবের।











