ঢাকা | অগাস্ট ১৮, ২০২৬ - ১১:১৬ অপরাহ্ন

ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান পবার কৃষকদের

  • আপডেট: Tuesday, August 18, 2026 - 10:51 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নিরাপদ জীবন ও পরিবেশ সুরক্ষায় অতিঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও অবাধ বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার কৃষকেরা। গতকাল মঙ্গলবার পবার বড়গাছি ইউনিয়নের বড়গাছি গ্রামে এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষক-কৃষাণীদের এক সমন্বয় ও পর্যালোচনা সভায় এ দাবি তোলা হয়।

গ্রিন কোয়ালিশন ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ আয়োজিত এ সভায় নিরাপদ কৃষি চর্চাকারী ৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। সভায় পরিবেশবান্ধব কৃষি শস্য ও স্থানীয় দেশি বীজ প্রদর্শন করা হয়।

বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কৃষকরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে গ্রামে পাখির সংখ্যা কমে গেছে, বিলে ও নদীতে রাসায়নিক মিশে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য উল্লেখ করে তারা জানান, দেশের ১০০ জন ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ৬৪ জনই কৃষক, যা দীর্ঘমেয়াদী কীটনাশক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল।

সভায় তরুণ কৃষক হৃদয় হাসান ও কৃষাণী রুবিনা বেগম জানান, নিমপাতা, ছাই, বিষকাঠালি ও মেহগনির বীজের রস দিয়ে সহজে তৈরি জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে সফলভাবে পোকা দমন করা সম্ভব। কৃষক আব্দুল জব্বার তাঁর পেঁপে চাষের উদাহরণ দিয়ে বলেন, জৈব বালাই ব্যবহারে বিষ ছাড়াই সম্পূর্ণ দাগমুক্ত ও ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

গ্রিন কোয়ালিশন পবা শাখার কৃষাণীরা জানান, বড়গাছি ইউনিয়নে বর্তমানে ৩০টি ‘মডেল শতবাড়ি’, ২টি ‘এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার’ ও ‘কমিউনিটি বীজ ব্যাংক’ রয়েছে। তারা ঘরের কাছে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে জৈব বালাই তৈরির ওপর জোর দেন এবং গ্রামে কীটনাশকের অবাধ বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা নিরাপদ উপায়ে খাদ্য উৎপাদন করতে চায়, কিন্তু এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সভা থেকে ইউনিয়নভিত্তিক বীজ ব্যাংক সম্প্রসারণ, কীটনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এবং এগ্রোইকোলজি রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।