ঢাকা | অগাস্ট ১৮, ২০২৬ - ১০:৫৯ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পুঠিয়ায় ব্যবসায়ীর জেল জরিমানা

  • আপডেট: Tuesday, August 18, 2026 - 10:38 pm

সোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর পুঠিয়ায় অবৈধভাবে ৪২ বস্তা সার মজুত করায় ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে নকল কীটনাশক তৈরি ও সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পুঠিয়া প্রতিনিধি জানায়, পুঠিয়ায় অনুমোদন ছাড়াই সার মজুত করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানে মজুত করা ৪২ বস্তা সার জব্দ করে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেসার্স শাওন এগ্রোতে অভিযান চালান। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অনুমোদন বিহীনভাবে মজুত করা ৩৪ বস্তা টিএসপি ও ৮ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাওনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে অভিযান চালানো হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার বাজারে নকল কীটনাশক তৈরি ও অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে সদের আলী (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বাজারে ‘মেসার্স সদের ট্রেডার্স’ নামের সার ও কীটনাশকের দোকান এবং সংলগ্ন গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসময় দোকান ও গোডাউন থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিকের বোতল, কীটনাশকের খালি প্যাকেট ও প্যাকেটজাত করার মেশিন জব্দ করা হয়। অভিযানে সংলগ্ন আরেকটি গোডাউন থেকে ৩০৭ বস্তা ইউরিয়া, ২৪৪ বস্তা এমওপি, ১৯ বস্তা ডিএপি ও তিন বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। এছাড়া স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে প্রকৃত মজুদের ব্যাপক অমিল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত বিক্রয় রসিদ ও বিক্রয় রেজিস্টারও দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামানের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে এবং আসামির স্বীকারোক্তির পর সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়। জব্দকৃত সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। আর জব্দকৃত রাসায়নিক পদার্থ যথাযথভাবে বিলিবন্টনের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।