ঢাকা | অগাস্ট ১, ২০২৬ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

ইউএনও বদলির পর বাঘায় প্রশাসনিক স্থবিরতা, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য

  • আপডেট: Friday, July 31, 2026 - 10:24 pm

বাঘা প্রতিনিধি: বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তারকে বদলি করার পর উপজেলা জুড়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদের দায়িত্ব শূন্য হয়ে পড়ায় দাপ্তরিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শনিবার বাঘা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং কেবল সুপারভাইজার পদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তোলে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর পদত্যাগ ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এর পরদিন রোববার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে ইউএনও শাম্মী আক্তারকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বদলি করা হয়।

ইউএনওর বদলির ফলে বাঘা উপজেলার অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ কার্যত শূন্য হয়ে গেছে। বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় কিংবা বিকল্পভাবে দায়িত্ব প্রদান না হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্য মুলক ভাবে অসত্য অভিযোগ তুলছে। দায়িত্ব হন্তান্তরের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্পন্ন করবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবে।