আম্মারসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ও মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা আসাদ উজ জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আট নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৭ থেকে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন।
রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ আমলী আদালতের বিচারক আশিকুর রহমান আবেদনটি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মতিহার আমলী আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়। মহানগর আদালতের পরিদর্শক আবদুর রফিক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ।
মামলার বাদী আসাদ উজ জামান অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুলাই (সোমবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেখে তাঁর ছেলে মাহিনের ওপর হামলার ঘটনা জানতে পারেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান। পরদিন তিনি মামলা দায়েরের জন্য মতিহার থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা গ্রহণ করেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালতে জমা দেয়া লিখিত আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে ছুরি, রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে অভিযুক্তরা সংগঠিত হয়ে মাহিনকে ঘিরে ধরে বেপরোয়া মারধর করেন। সে সময় আসামিদের একজন সালাউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে সজোরে আঘাত করেন। অপর আসামি সালমান সাব্বির রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তা মাহিনের বাম চোখে লেগে গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অন্যান্য আসামিরাও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। একপর্যায়ে চারজন আসামি তাঁকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত মাহিনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করলে আসামিরা পুনরায় তাঁকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। পরবর্তীতে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী হজরত আলী সাংবাদিকদের জানান, ‘আদালত অভিযোগটির সত্যতা যাচাই ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পিবিআইয়ের নিকট পাঠিয়েছেন।’











