ঢাকা | জুলাই ৩১, ২০২৬ - ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পদ্মায় মর্মান্তিক নৌকাডুবি: দুদিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ বাবা-ছেলের লাশ

  • আপডেট: Thursday, July 30, 2026 - 10:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মর্মান্তিক নৌকাডুবির দুদিন পর নিখোঁজ বাবা কাওসার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল ইসলামের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত দুজনই কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তাঁরা পদ্মা নদীর চরাঞ্চল থেকে খড় ও ঝাউগাছ কেটে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে স্বজনদের বসতবাড়ির একেবারে কাছে তালাইমারী ও শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকার মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে ভেসে ওঠে ছেলে জিয়ারুলের লাশ। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে চারঘাট সংলগ্ন বাংলাবাজার এলাকায় ভেসে ওঠে বাবা কাওসার আলীর ভাসমান লাশ। স্থানীয়দের মুখে খবর পেয়ে ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি ডাঙায় নিয়ে আসে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফরহাদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের যৌথ সহায়তায় লাশ দুটি নদী থেকে উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি বা অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে পদ্মা নদীতে ডুবে বাবা কাওছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল এর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান পবা উপজেলার কাটাখালী শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকা। এই শোকের মধ্যেই নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পবা উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার রাতের আঁধারে নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের নির্দেশনায় তিনি নিহতদের স্বজনদের হাতে নগদ অর্থ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নৌকাডুবি থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা ছয়জন শ্রমজীবী ব্যক্তিকেও সহায়তার আওতায় আনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম। সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত কাওছার মাঝির স্ত্রী জাহেরা বেগম বলেন, “নৌকাডুবিতে স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি। মুহূর্তেই আমার সংসার শূন্য হয়ে গেছে। এই দুঃসময়ে উপজেলা প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার পিতৃহারা নাতি-নাতনির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন বলেন, “এই দুর্ঘটনায় শুধু দুটি প্রাণ হারায়নি; দুটি পরিবারের স্বপ্ন, ভরসা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে গেছে। একজন মা একই সঙ্গে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েছেন, শিশুরা হারিয়েছে তাদের বাবাকে। এই শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” তিনি জানান, নিহত জিয়ারুলের সন্তানদের লেখাপড়া যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।