রাজশাহীর অপেক্ষা ঘোচাচ্ছেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মেয়েরা
স্পোর্টস ডেস্ক: রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেট আয়োজনকে সামনে রেখে ট্রফি উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নারী দলের দুই অধিনায়ক।
রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় মাঠে ট্রফি উন্মোচনের পরে সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন সিরিজ ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন তাঁরা। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০, ২২ ও ২৫ এপ্রিল হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর সিলেটে ২৮ ও ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে হবে টি-টুয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ।
রাজশাহীর এই মাঠে আগে অনেক ম্যাচই হয়েছে। হয়েছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট আর ইমার্জিং দলের খেলাও। তবে কোনো জাতীয় দলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি কখনো। বাংলাদেশ -শ্রীলঙ্কা নারী দলের সিরিজ দিয়ে অবসান হতে যাচ্ছে সেই অপেক্ষার। সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ সোমবার। সব ম্যাচই শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।
বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা এই সিরিজকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজটা আমাদের প্রস্তুতির জন্য খুব ভালো হবে। এর আগে আমরা এমন সুযোগ পাইনি। এবার পাচ্ছি, এটা দলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার বড় সুযোগ।’
এ বছরের ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে হবে মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। দলের সামর্থ্য নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের জন্য যে স্কোয়াড ঘোষণা হয়েছে, সেটা অনেক চিন্তাভাবনা করেই দেয়া হয়েছে। যারা সামনে বিশ্বকাপে খেলবে, তাদেরও এখানে সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা বলব, এটি একটি শক্তিশালী দল।’
রাজশাহীর ভেন্যু নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন নিগার, ‘এখানে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি। তবে আগে অনেক ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছি। উইকেট ভালো, ব্যাটিং-সহায়ক। আউটফিল্ড নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভালো।’
রাজশাহীতে এখন প্রচণ্ড গরম। আবহাওয়া কোনো সমস্যা হবে কি না, জানতে চাইলে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, ‘রাজশাহীতে গরম, এটা আমরা জানি। কিন্তু এখানে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই আবহাওয়া বড় সমস্যা হবে না।’
নিগার বরং মনে করেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রাখলে রাজশাহীতে খেলে উপকারই হবে তাঁদের, ‘ইংল্যান্ডে ব্যাটিং–সহায়ক উইকেটই বেশি থাকে। আমরা এমন উইকেটই চেয়েছি, যেখানে ব্যাটাররা রান করতে পারবে। রান করার অভ্যাস তৈরি করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ দেশের আঞ্চলিক ভেন্যুগুলোর উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, ‘সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে হবে না। বাইরের ভেন্যুগুলোকে পরিচর্যা করতে হবে। নিয়মিত খেলা হলে নতুন খেলোয়াড়েরা অনুপ্রাণিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুও কথা বলেছেন সিরিজ আর ভেন্যু নিয়ে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এই মাঠ এখনো আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে বর্তমানে উইকেট ও কন্ডিশন খুব ভালো। এটি নতুন ভেন্যু, তাই আমরা খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করছি না। দিনের শেষে আমাদের কাজ মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলা।’
ঢাকার মাঠ বা কন্ডিশনের সঙ্গেও রাজশাহীর তুলনা করেন তিনি, ‘ঢাকায় খেলার অভিজ্ঞতা আলাদা। তবে এখানে কন্ডিশন কিছুটা ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হবে। আশা করি, আমরা বেশি রান করতে পারব এবং ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারব।’











