ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৬ - ১:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গোদাগাড়ীতে কুকুরের উপদ্রব: জরুরি ভ্যাকসিনের দাবিতে দুই মন্ত্রণালয়ে আবেদন

  • আপডেট: Sunday, April 19, 2026 - 10:16 pm

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকাসহ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কুকুরকে প্রতিষেধক ভ্যাকসিন প্রদানের দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছে ‘নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটি’, গোদাগাড়ী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাগলা কুকুরের কামড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুততম সময়ে গোদাগাড়ী পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে শ্রীমন্তপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন তিতুর ৩ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ বাড়ির পাশে খেলার সময় একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। কুকুরটি শিশুটির নাকের একাংশের মাংস কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই দিনে মোমিমুল (৫৮) নামে এক বৃদ্ধকে আক্রমণ করে কুকুরটি তার কপালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার ক্ষতস্থানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া বুজরুকপাড়ার তাজকেরা বেগম বেবি (৩৫) নামে এক নারী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে বর্তমানে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলাম ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে একদল কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় কুকুরগুলো লাফিয়ে তার মুখে ও বাম পায়ে কামড় দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গোদাগাড়ীতে কুকুরের কামড়ে একের পর এক আহতের ঘটনা ঘটছে। এটি এখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে পৌর এলাকায় কুকুরদের ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার জন্য মাননীয় মন্ত্রীদের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা জলাতঙ্ক মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।