হারাতে বসেছে চারঘাটের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ডালি
মোজাম্মেল হক, চারঘাট থেকে: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ডালি শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় গ্রামীণ জীবনযাত্রার অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত এই ডালির কদর এখন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশের তৈরি সামগ্রী উৎপাদন করে আসা কারিগররা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রমত্তা পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে চারঘাট উপজেলার চন্দনশহর ও পিরোজপুর গ্রাম। এ গ্রামে সুদূর ব্রিটিশ আমল থেকে সাধারণ মানুষ বাঁশের কঞ্চি থেকে ডালি তৈরি ও বাঁশের বাতা দিয়ে টুকরি তৈরি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। এই গ্রামের শতকরা ৮০ভাগ মানুষ এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। যার কারণে এ গ্রামের নাম রাখা হয় ডালিপাড়া (পিরোজপুর)।
ডালিপাড়া নামক ছোট একটি এলাকা জুড়ে বাঁশ শিল্প গড়ে উঠেছে। গ্রামের বাড়ির উঠানে কিংবা বাড়ির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া মেঠো পথ অথবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে বাঁশ দিয়ে নানা পণ্য তৈরি করছেন গ্রামের লোকজন। সরেজমিনে গেলে ডালিপাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, সকালে অনেককে বের হতে হয় বাঁশ সংগ্রহে।
এর মধ্যে বাকিদের শুরু হয় বাঁশ কাটা, চাছা, চাটাই বাঁধা, শুকানো ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরির কাজ। নারীরাও বসেন বাঁশের কাজে। ছেলে মেয়েরাও সাধ্যমতো সহযোগিতা করে। বাড়ির উঠানে বসে কাজ করছিলেন কারিগর মতিউর রহমান (৪০) তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে সহজে বাঁশ সংগ্রহ করা যেত। এখন বাঁশের সঙ্কটসহ দাম বেড়েছে। সে কারণে লাভ কমে গেছে।
কারিগর শাপলা খাতুন (৫৫) জানান, বাঁশ কারিগরদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাতকরণ। বর্তমানে তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে স্থানীয়ভাবে পাইকার সৃষ্টি হয়েছে। আর তাদের কাছে এই বাঁশের শিল্পীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, চারঘাটের বাঁশের ডালি শুধু একটি পণ্য নয়, এটি এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে শত বছরের এই বাঁশের ডালি শিল্প।











