ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬ - ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

বাঘায় রোজার আগের দিন নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতি

  • আপডেট: Wednesday, February 18, 2026 - 10:18 pm

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘাতে এবারও রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। রোজার আগের দিন বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফলমূল, সবজি, খেজুর, ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ।

বুধবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাঘা পৌর শহর বাঘা বাজার ও মনিগ্রাম হাট বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বড় লেবু হালিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও ছোট লেবু হালি ৪০ টাকা।

এ ব্যাপারে লেবু বিক্রেতা মতলেব বলেন, এহন লেবুর সিজন না চাহিদা বেশি তাই দাম বেশি। লেবুর সিজনে আমরা ১০-১৫ টাকা হালি লেবু বিক্রি করতাম। রমজানে ইফতারের অন্যতম উপাদান খেজুর যা বর্তমানে ২৫০ থেকে ১,৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম কেজিতে ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। কাঁচামরিচ ৭০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা কেজি।

রমজানের আরেক জনপ্রিয় ইফতারি ‘বেগুনি’র প্রধান উপকরণ বেগুনের দাম কেজিতে ৬০-৭০ টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা, বেসন ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা এবং খেসারি ডাল ১০০ টাকা কেজি দরে। সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ভাষ্য, ‘কেনা দাম বেশি তাই বেচিও বেশি। গতবার রোজার চেয়ে এবার কাচা সবজির দাম অনেক কম।’

মাছ ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। সোনালী মুরগি কেজি ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার ২০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,০০০ থেকে ১১,০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রেতা আবুল বাশার বলেন, রমজান এলেই দাম বেড়ে যায়। সিন্ডিকেটের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এভাবে চলতে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরেক ক্রেতা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আগে ১ হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার করা যেত আর এখন দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। রোজার সময় ইফতারের জন্য বাড়তি খরচ লাগে কিন্তু আয় তো বাড়ে না। বাজারে এসে প্রতিদিনই নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদা, সরবরাহে ঘাটতি এবং পাইকারি বাজারের অস্থিরতা এই তিন কারণেই প্রতিবছর এ সময় দাম বাড়ে। তবে কার্যকর বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।