দুর্গাপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পুকুর খননের অভিযোগ
দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল রউফ পাইক।
লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়ইল ও আড়ইল মৌজার মাঝামাঝি প্রায় ৫০ বিঘা মৌজা পুকুর সংস্কারের লক্ষ্যে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জমির মালিকদের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হন রউফ পাইক।
পরে তিনি পুকুর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে একতৃতীয়াংশ কাজ শেষ করেন। তবে গত ২০ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ তাঁর নিজস্ব ১০৬ শতাংশ এবং লিজকৃত জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রউফ পাইক বলেন, আমি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে খননকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। আমি খননকাজে বাধা দিলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। ২৪ ডিসেম্বর আমার বাড়িতে হামলাও করা হয়েছে। আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশ কার্যকর না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অবৈধ খনন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর দুর্গাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এর আগে ২২ ডিসেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে এডিএম আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে আদালত আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং ১৪৪ ধারা বহাল রাখেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ নির্দেশনা সত্ত্বেও খননকাজ বন্ধ হয়নি। আবেদনে বলা হয়, আদালত একাধিকবার থানার ওসিকে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও দৃশ্যমান প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন আবেদনকারী।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, আদালতে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে এবং আমরা নিয়মিতভাবে বিষয়টি মনিটর করছি। যেকোনো পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।











