ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬ - ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

৪৬ বছর পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল রাজশাহী সদর

  • আপডেট: Tuesday, February 17, 2026 - 10:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সদরের মানুষ ৪৬ বছর পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু।

এর আগে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় এই আসন থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন এমরান আলী সরকার। তিনি ছিলেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

রাজশাহী জেলা এ পর্যন্ত পাঁচজন মন্ত্রী পেল। বিএনপির এমরান আলী সরকারের আগে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সদর আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এএইচএম কামারুজ্জামান বাণিজ্য, শিল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ছিলেন।

এরশাদের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী, মৎস্য ও পশুপালনমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাগমারার সরদার আমজাদ হোসেন।

আর রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। এই চারজন মন্ত্রীর পর মিজানুর রহমান মিনুকে পেল রাজশাহী। তাঁর আগে রাজশাহী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের শাহরিয়ার আলম ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

আর ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে রাজশাহী সদর আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির কবির হোসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ওই সংসদে রাজশাহী-১ আসন থেকে ব্যারিস্টার আমিনুল হক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বাগমারার সরদার আমজাদ হোসেনও ১৯৮৬ সালে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন পর রাজশাহী সদর থেকে মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রী হলেন। বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র হন। টানা ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যও হন।

বিএনপির বর্ষীয়ান এ নেতা এবার প্রথম মন্ত্রী হলেন। এতে দলমত-নির্বিশেষে রাজশাহীর সব মানুষ খুশি। তাঁর মন্ত্রিত্বের খবরে শহরের পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মন্ত্রী হওয়ার পর মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব।’

রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘মিনু ভাই আধুনিক রাজশাহীর রূপকার। তিনি নিজের সন্তানের মতো করে এই শহরকে গড়ে তুলেছেন। এই দলের জন্য তিনি নিজের সারাটা জীবন উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য আমরা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রী হওয়ায় শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, পুরো রাজশাহী জুড়ে বইছে খুশির বন্যা।