ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬ - ১:৫৯ পূর্বাহ্ন

পাবনা ৩ ও ৪ আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও

  • আপডেট: Friday, February 13, 2026 - 10:16 pm

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা-৩ ও ৪ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তারা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। পরে জেলা প্রশাসক প্রার্থীদের আবেদন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সরে যান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাবনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন এবং পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ভোট পুনর্গণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী পাবনা-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আছগার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান জাফির তুহিন পান ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবি জানান তিনি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গণনার তথ্য ও ফরম-১৬ এর তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি।

পাবনা-৩ আসনের ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্রে একাধিকবার পুনর্গণনায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকের ভোট পাওয়া গেছে এবং প্রতিবাদ করলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সেনাবাহিনী ডেকে এজেন্টকে মারধর করেন। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এজেন্ট আলামিন হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পাবনা-৩ আসনে তুহিনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, অন্তত ২৫টি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি, যা সন্দেহজনক।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে পাবনা-৪ আসনেও। সেখানে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ৩ হাজার ৮০১ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তালেব মন্ডলের কাছে পরাজিত হন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা এজেন্টদের সামনে ভোট গণনা করেননি এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। দিয়ার শাহাপুর এলাকার কৃষকদল নেতা মুকুল সরদার দাবি করেন, ভোটের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের লোকজনকে কেন্দ্রে অবাধে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে এবং আপত্তি জানালে মারধর করা হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন ও হাবিবুর রহমান হাবিব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে নিরাপত্তার মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলিম জানান, উভয় প্রার্থীর অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে।