ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬ - ৩:৫১ পূর্বাহ্ন

নির্বাচতি হলে একশ দিনের মধ্যে রাজশাহীকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে : মিনু

  • আপডেট: Tuesday, February 10, 2026 - 12:15 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এমপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, আমি কথা দিচ্ছি নির্বাচতি হলে আমার প্রথম দায়িত্ব হবে ১০০ দিনের মধ্যে রাজশাহীকে সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত এবং চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। ভূমিদস্যু যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আনা হবে। সেইসাথে রাজশাহীকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ্।

গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর বাটার মোড়ে গণমিছিল পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামী ১২ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন আপনারা সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচন করছি। ভোট দিয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।

সাবেক এমপি মিনু বলেন, প্রিয় ভাই ও বোনেরা মনে রাখতে হবে এই নির্বাচন বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটি আধুনিক বাংলাদেশ, মানুষের প্রত্যাশা ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার নির্বাচন। নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রিয় নেতা শহিদ জিয়াউর রহমানকে যখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আনা হয়েছিল। সেই সময় তিনি মাত্র চার বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন ও গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শহিদ জিয়া এদেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্বনির্ভর বাংলাদেশ করেছিলেন। আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লড়াইয়ে আজ বিশ্বনেত্রী হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান গত ২৯ তারিখে মাদ্রাসা সভায় স্পষ্ট বলে গেছেন তিনি কিভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবেন। তিনি প্রত্যেক পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড, মানুষের হাতে স্বাস্থ্য কার্ড পৌঁছে দেবেন। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে রাজশাহীসহ বাংলাদেশের সকল বেকার যুবকদের জন্য আইটি সেক্টর ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

মিনু আরো বলেন, আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি আপনাদের সুখে-দুঃখে বিপদে পাশে আছি। ভোর থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত রাজশাহীকে কিভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে কাজ করেছি ও করবো। আগামী দিনে আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব দিলে রাজশাহীর সকল বেকার যুবক ও ভাই-বোনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে রাজশাহীকে একটি শান্তিপূর্ণ মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মিনু বলেন, আপনাদের সন্তান ও ভাই হিসেবে অনুরোধ করছি, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আমরা নির্বাচনের পর সবাই ভাই-ভাই মিলে রাজশাহীকে এবং বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। আমি আবারো আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুন বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা সবাই আমাদের জনপ্রিয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু ভাইকে বিজয়ী করবেন। তিনি এ অঞ্চলের জনপ্রিয় মুখ। সবাই তার জন্য কাজ করবেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, আবুল কালাম আজাদ সুইট, জয়নুল আবেদিন শিবলি ও সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহিলাদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, মহানগর মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সখিনা খাতুনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বাটার মোড় থেকে একটি গণমিছিল শুরু হয় গণমিছিলটি মালোপাড়া, সোনাদিঘীর মোড়, মনিচত্বর, সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, কুমারপাড়া, আলুপট্টি ও গণকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পুনরায় বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মিনুর ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। মিছিলটি গণজোয়ারে পরিণত হয়।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা চালান রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, বলেছেন, এখন সবচেয়ে বড় সামাজিক সঙ্কট হলো শিক্ষিত বেকারত্ব। লেখাপড়া শেষ করেও আমাদের তরুণরা কাজ পাচ্ছে না। এর ফলে হতাশা বাড়ছে, সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাড এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, বোয়ালিয়া থানা পূর্ব বিএনপির সভাপতি আশরাফুল আলম নিপু, সাবেক কাউন্সিলর কামরুন নাহার, ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসলাম আলী ও সাধারণ সম্পাদক আফরোজ, সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান টেনিসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।