ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬ - ৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

বাগমারায় এনজিও পরিচালক হত্যাকাণ্ড অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট: Sunday, February 1, 2026 - 12:25 am

বাগমারা প্রতিনিধি: বাগমারায় এনজিও পরিচালক মাহাবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মাহাবুর রহমানের বড় ভাই জেকের আলী বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে মামলাটি করেছেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, নরদাশ ইউনিয়নের ঢাকের মোড়ে আশারা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি এনজিও রয়েছে। হাট মাধনগর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও নিহত মাহাবুর রহমান যৌথভাবে ওই এনজিও পরিচালনা করতেন। মাহাবুর রহমান ছিলেন ওই এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক এবং সাদ্দাম হোসেন ছিলেন সভাপতি।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত মাহাবুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেন একই সাথে ওই এনজিও কার্যালয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পালসার মোটরসাইকেলযোগে অপরিচিত দুইজন লোক এসে মাহাবুর রহমানের হাতে একটি বোতল দিয়ে তরল জাতীয় কিছু খেতে দেয়। এরপর তারা মাহাবুর রহমানকে ওই মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে মচমইল বাজারের দিকে চলে যায়। এরপর থেকেই মাহাবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চালু থাকলেও ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর রামপুর গ্রামের জাকির হোসেন নামে এক যুবক মাহাবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রিসিভ করেন।

ফোনে সে মাহাবুর রহমানের স্ত্রী রাশেদা বেগমকে জানায়, হাট বাইগাছা-ভবানীগঞ্জ রোর্ডের রামপুর গ্রামের তিন মাথার মোড় সংলগ্ন একটি কলা বাগানের পাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনের রিংটনের শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি ফোনটি তুলে নিয়ে রিসিভ করেছেন। এরপর পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই কলা বাগানের মধ্যে মাহাবুর রহমানের গলা কাটা লাশ দেখতে পান। পুলিশের সুরতাহাল রিপোর্টে লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে ওই এনজিও’র সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে মাহাবুর রহমান ঢাকের মোড়ের পাশে বিদ্যুৎ চালিত মোটর দ্বারা পুকুরের পানি নিষ্কাশনের জন্য অফিস থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি আর অফিসে ফিরে আসেননি। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের তথ্য উদঘাটনের জন্য ওই এনজিও’র সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার বিকেলে পারিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।