ঢাকা | জানুয়ারী ২২, ২০২৬ - ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

বিসিকের বাউন্ডারি ওয়ালে অবরুদ্ধ ৬ হাজার পরিবার

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 9:17 pm

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রসবার-৪ নির্মিত হওয়ার পর হাজার হাজার বসতি গড়ে উঠেছে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০১৪ সালে দশ কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়। অথচ চলাচলের একমাত্র সেই রাস্তাটি জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দিয়েছে বিসিক, এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৬ হাজার পরিবার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিসিকের সাবেক পরিচালক জাফর বায়োজিদ বিসিক থেকে আমাদের জন্য বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে না দিয়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল করে বন্ধ করে দিয়েছে। এসময় তারা আরও জানান বিসিক প্রকৌশল বিভাগের আওয়ামী ঘরোয়া পরিচালক আব্দুল মতিনের পরামর্শে সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়জিদ এই বাউন্ডারি ওয়ালটি নির্মাণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও লোক দেখানো তদন্ত করছে বিসিক চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে বিসিকের সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়জিদ জানান, একটা শিল্প পার্কের ভিতর দিয়ে রাস্তা দেয়া সম্ভব না। এডিপি থেকে বাউন্ডারির বাইরে দিয়ে রাস্তা দেয়া চেষ্টা করেছে এলজিইডি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিসিক কর্তৃপক্ষ আমাদের না জানিয়ে আমাদের কিছু রাস্তা উঠিয়ে ফেলে বাউন্ডারি নির্মাণ ওয়াল নির্মাণ করেছে। এতে আমরা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করতে যেতে পারছি না, যে কোনো সময় ভাঙন দেখা দিলে, জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। এ নিয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বিষয়টি অবগত নন। এসময় তিনি আরও জানান, বিষয়টি আমি দেখছি। উল্লেখ্য যে, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করতে করতে সর্বশেষ প্রকল্পটি ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।