ঢাকা | জানুয়ারী ২, ২০২৬ - ৩:০৯ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীসহ ১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

  • আপডেট: Thursday, January 1, 2026 - 11:50 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনেরমত মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও নেয় তাপের প্রখরতা। উত্তরের হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনের বেলাতেও মানুষজনকে গরম কাপড় পরে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধিতে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বেশি। সকালে তারা কাজে যেতে পারছেননা। রাত গভীর না হতেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। টানা এই শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে স্কুলগামী শিশুরা। তারা আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা অসুখে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে বয়স্ক ও শিশুদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা এসময় সকলকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে কয়েকদিনব্যাপী বয়ে যাওয়া প্রতিকুল আবহাওয়ায় রাজশাহীর আলু ও বোরো চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এই আবহাওয়ায় আলুতে লেটব্লাইট ও বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরির আশংকা করছেন তারা। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পাশে থেকে প্রয়োজনিয় পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষিবীদরা। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে গরম কাপড়ের ব্যবসা জমে উঠেছে। ক্রেতারাও ভিড় করছেন গরম কাপড়ের কেনাকাটায়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষরা ভিড় করছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। এই সুযোগে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবারও রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদ শহিদুল ইসলাম।

এদিকে শীতে কাঁপছে সারাদেশ। বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার অনেক এলাকায় সূর্যের দেখা মেলায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে এবং কিছু এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও এটি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রাও সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কুয়াশা কেটে গেলে শীতের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।