ঢাকা | অগাস্ট ৩১, ২০২৫ - ৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • আপডেট: Monday, July 7, 2025 - 11:54 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: বাগমারার কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে সরকারি খাস পুকুর দখল, অতিদরিদ্র কর্মসূচি প্রকল্পের টাকা, ইজিপিপি প্রকল্পের টাকা, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের টাকা এবং ইউপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে গরীব ও অসহায় পরিবারের কাছে থেকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুস নেয়া এবং সালিশ বৈঠকের নামেও ঘুস গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

তার এসব দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিমুদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের কপি জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনারের কাছেও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা আ.লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সাবেক এমপি প্রকৌশলী এনামুল হকের ছত্রছায়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে সরকারি খাস পুকুর দখল, বিভিন্ন ভাতাভোগীদের নামে কার্ড করে দেয়ার নামে অর্থ আদায়, সালিশ বৈঠকের নামে ঘুস গ্রহণ এবং ইউপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ হওয়া প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির পন্থা অবলম্বন করে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলহাজ মকবুল হোসেন অভিযোগ করেন, তার পুত্র বধূর মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সম্প্রতি তার কাছে থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুস নেন। কিন্তু আজও তার কার্ড হয়নি। এদিকে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা নবিল আলী, আল মামুন ও নজরুল ইসলামসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ভূক্তভোগীরাও একই অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, তার ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া দয়ের ঘাট অবৈধভাবে দখল করে ইসলাইল হোসেন লোকজনের কাছে থেকে ধান ও টাকা আদায় করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।