ঢাকা | মার্চ ১, ২০২৫ - ৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চালাচলে সড়কে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা

  • আপডেট: Friday, February 28, 2025 - 9:05 pm

এফএনএস এক্সক্লুসিভ: রাজধানীসহ সারা দেশের সব সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য। কোনো রিকশায় মোটর সংযোজন করা, কোনোটি স্টিল বডি রিকশা, আর অন্যটি অটোরিকশার আদলে ইজি বাইক। দেশের পথঘাট সয়লাব এসব অনুমোদনহীন রিকশায়। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে এসব রিকশা চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেদার চলছে বিভিন্ন সড়কে।

দ্রুতগতির এসব হালকা বাহনে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনাও। সঙ্গে বিদ্যুৎ অপচয় তো আছেই। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বন্ধ করা হলেও চালকদের প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে এসব বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে এমনিতেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে।

ছোট-বড় গাড়ির যত্রতত্র পার্কিং ও প্রধান সড়কের দুই পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফুটপাথে দোকান, মোড়ে মোড়ে সিএনজি ও অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ডের কারণে শহরটিতে যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় যানজটের কারণে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। নগরবাসী জানায়, ট্রাফিক পুলিশ ডিউটি করলেও সেটি পরিকল্পিত নয়। ব্যস্ততম সময়ে শহরে যানজটের চিত্র দেখলে বোঝাই যায় না সড়কে আসলে ট্রাফিক পুলিশ কোন ডিউটি করছেন।

যানজটের চাপে তারাও দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। অন্যদিকে, ট্রাফিক পুলিশ বলছে, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ট্রাফিকের জনবল কম হওয়ায় ব্যস্ততম শহরে মাঝে-মধ্যে একটু যানজট লেগে যায়। তবে যানজটের মূল কারণ সড়কের উল্টো পথ দিয়ে আসা। বারবার জরিমানা মামলা এবং সবাইকে বলার পরও উল্টো পথে গাড়ি ঢ়ুকিয়ে দেয় সেই গাড়ি পিছনে ফেরানো সম্ভব হয় না ফলে যানজট পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া শহরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট দিনদিন বাড়তে থাকলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার কারণেই এই যানজট। জানা যায়, লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানী জুড়ে। এসব রিকশার দৌরাত্ম্যে সড়কে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এত সংখ্যক রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকায় এখন যত্রতত্র তৈরি হচ্ছে এ রিকশা। যার কোনো পরিসংখ্যান সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি আয়ের আশায় এখন অল্প টাকায় রিকশা বানিয়ে অনেকেই সড়কে নেমে পড়ছেন। প্রতিদিন শত শত রিকশা তৈরি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন ছোট-বড় কারখানায়। যা ঢাকার সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঢাকায় অন্তত ১২ লাখ প্যাডেল রিকশা রয়েছে।

আর অবৈধ অটোরিকশা রয়েছে ৬ থেকে ৭ লাখের মতো। এদিকে মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আখড়া। যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হচ্ছে তিন চাকার এই অবৈধ বাহনগুলো। স্টেশনের কাছে জটলা করে থাকায় মেট্রোরেলের স্টেশন ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও বিশৃঙ্খলা। এসব বাহনের কারণে স্টেশনের ঠিক সিঁড়ির প্রবেশ মুখেই জটলা বেঁধে অবস্থান নেয় চালকরা।

এতে ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা পেয়ে সৃষ্টি হয় যানজটের। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সড়কে ভিন্ন ভিন্ন গতির গাড়ি চললে দুর্ঘটনা ঘটবেই। অটোরিকশা, ইজিবাইকে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে ট্রাক, বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীতে এসব রিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থা কিছুটা ঢিলে হয়ে গেলে সুযোগ পায় এসব অবৈধ যানগুলো। যার দাপটে কাবু হয়ে আছে সড়কের অন্যান্য যান। নিরাপদ হওয়ার পরও যাত্রী কমে গেছে প্যাডেলচালিত রিকশাগুলোতে। অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও বেশ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এসব ঝুঁকিপূর্ণ রিকশার জন্য।

এদিকে, প্যাডেলচালিত রিকশাচালকরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেয়া দরকার। রাস্তায় এগুলোর জন্য দুর্ঘটনা বাড়ছে। জোরে এসে প্যাডেলচালিত গাড়িগুলোর সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। কিছু বলতে গেলে ঝগড়া বেঁধে যায়। আর তাদের জন্য এখন প্যাডেলের রিকশার যাত্রীও নেই।

এদের কোনো কাগজপত্র নেই, লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণ নেই- রাস্তায় যত জোরে পারে চালায়। অথচ এত জোরে চালানোর ব্রেক নাই তাদের। এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকার মূল সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কারণ রিকশাচালকদের সড়ক সম্পর্কে জ্ঞান নেই। সড়কের কোনো নিয়মকানুন তারা জানেন না।

অনেকেই রাতারাতি চালক বনে গেছেন। এখন এসব ছোট, খুচরা যানবাহন যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট ছোট যানবাহনগুলো বাসেরও সক্ষমতা নষ্ট করছে। একই সড়কে বাসও চলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশাও চলছে। ফলে একজন একজনের সক্ষমতা খেয়ে ফেলেছে।

যানবাহনগুলো সড়কে অতিরিক্ত চাপ, যানজটও তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাটারিচাধিলত রিকশার কারণে পথচারীরা নিরাপদভাবে রাস্তা পারাপার হতে পারে না। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে নিয়মিতভাবেই ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলোর প্রায় সবটুকু অংশ অটোরিকশার দখলে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন করা ও নিরাপদে পথচারী পারাপারের জন্য আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারির ব্যবহার বন্ধ করা উচিত বলে মনে করছেন সড়ক সংশ্লিষ্টরা।