বাগমারায় ইউপি সদস্যের কাণ্ড
বাগমারা প্রতিনিধি: বাগমারায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ১০১ জন সুস্থ মানুষকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১নং গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতা আত্মসাৎ করে আসছেন। তিনি ইউনিয়নের বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত তদবির করে সুস্থ ও সবল ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে ভাতাভুক্ত করেছেন।
অভিযোগকারী আনোয়ার পারভেজ তার লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সমাজসেবা অফিসারের তথ্যমতে, সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার ৫০টি বরাদ্দ চেয়ারম্যান রেজুলেশনের মাধ্যমে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম উপজেলার সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সহযোগিতায় আরও ১০১ জন সুস্থ মানুষকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে তাদের নামে কার্ড তৈরি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৪ কিস্তিতে জনপ্রতি ১০,৮০০ টাকা এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ১ম কিস্তির ৩,০০০ টাকাসহ মোট জনপ্রতি ১৩,৮০০ টাকা করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে ১২টি সিম কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা উত্তোলন করতে গেলে স্থানীয় জনগণ তাকে হাতে-নাতে আটক করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ১০টি সিম কার্ডসহ জনতার হাতে আটক হওয়া ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামকে উত্তেজিত জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে ।
পরে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের কাছে থেকে উদ্ধারকৃত ১০টি সিম কার্ড পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে চেয়ারম্যানের কাছে জমা রাখা হয়। এখনও তার কাছে ৯১টি সিম কার্ড রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ভুয়া প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয় অবশ্যই অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামসহ অভিযুক্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে তলব করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।











