রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৪৩, নগরীতে ২০ জন গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। গতকাল রোববার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জ জুড়ে মোট ৫৯টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি খুন, ১টি খুনসহ ডাকাতি বা ডাকাতি, ১টি চুরি, ৩টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অন্যান্য খাতে ৫৩টি মামলা। এছাড়া এই সময়ে ৪টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালিত ১৪৫টি অভিযানে মোট ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত ৬৩ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৮ জন, তদন্তাধীন মামলার ৭১ জন, অন্যান্য প্রতিরোধমূলক মামলার ১ জন এবং ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী রয়েছেন। এ সময় পুলিশ ১টি বার্মিজ চাকু এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।
উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ৫ গ্রাম হেরোইন, ২২০ পিস ইয়াবা, ৪৬৭ পিস ট্যাপেন্টাডল, ৩৬৪ গ্রাম গাঁজা এবং ৩৬ লিটার চোলাই মদ রয়েছে। জনসাধারণকে নিরবচ্ছিন্ন পুলিশি সেবা দেয়ার অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩২ জন সেবাগ্রহীতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং চলতি মাসে এ পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬০ জন সেবা গ্রহণ করেছেন।
নগরীজুড়ে ৬ মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ২০:
এদিকে রাজশাহী নগরীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব অভিযানে এসকাফ সিরাপ, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, গত শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ বড় পুকুরিয়া এলাকা থেকে ১০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ মো. কালু (৪৪) ও তাঁর স্ত্রী শরিফা বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। একই দিন সন্ধ্যায় চন্দ্রিমা থানা পুলিশ খড়খড়ি বাইপাস মোড় থেকে সাত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ১ হাজার ৮৩০ টাকাসহ নুর ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত সাতটি ও জুয়া আইনে একটি মামলা রয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরচণ্ডী উত্তরপাড়া থেকে নয় পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পাভেলকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিন রাতে দুই পিস ইয়াবাসহ বোয়ালিয়া থানা পুলিশ রামচন্দ্রপুর বৌবাজার এলাকা থেকে শাহিন আলী ওরফে সদাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। একই রাত সোয়া ১টার দিকে ডিবি পুলিশ মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা এলাকা থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম মানিককে (৩০) গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ জনের মধ্যে সাতজন ওয়ারেন্টভুক্ত, চারজন মাদক মামলার আসামি এবং তিনজন অন্যান্য মামলার আসামি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। রোববার সকালে সকল আসামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।











