ঢাকা | অক্টোবর ২৫, ২০২৬ - ১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে গ্যাসের সংকটে ফিরছে ‘খড়ির যুগ’

  • আপডেট: Saturday, October 24, 2026 - 10:25 pm

এলপিজির চড়া দামে দিশেহারা মানুষ:

স্টাফ রিপোর্টার: এলপিজির চড়া দাম ও তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজশাহীতে রান্নাঘরের আধুনিকতা থমকে দাঁড়িয়েছে। নাগাল না পেয়ে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঐতিহ্যবাহী কাঠের খড়ির দিকে ঝুঁকছেন, যা নগরীতে ফিরিয়ে এনেছে এক সময় পেছনে ফেলে আসা ‘খড়ির যুগ’। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে চাহিদা বাড়ায় রাজশাহী নগরী ও আশপাশের এলাকায় কাঠের খড়ির রমরমা ব্যবসা জমে উঠেছে।

সংকটকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীসংলগ্ন কাশিয়াডাঙ্গা, আমচত্বর, কাটাখালী ও নওহাটাসহ বিভিন্ন পয়েন্টের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে খড়ির আড়ৎ। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসেব মতে, বর্তমানে পুরো নগরীতে অর্ধশতাধিক খড়ির আড়ৎ সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি আড়তে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ হাজার টাকার খড়ি বিক্রি হচ্ছে।

সেই হিসাবে রাজশাহী নগরীতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ টাকার কাঠখড়ি হাতবদল হচ্ছে, যা মাসের হিসাবে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকায়। সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্যের কারণে মাস শেষে আর বাজেটের হিসেব মেলাতে পারছে না। নিরুপায় হয়েই তাদের আবার মাটির চুলা ও খড়িতে রান্নার পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার আড়ৎদার আমজাদ হোসেন জানান, তাঁর আড়তে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মণ খড়ি বিকোচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার টাকার বেশি বেচাকেনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে খড়ি কিনছে। আগে যারা নিয়মিত গ্যাসে রান্না করতেন, এমন অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এখন খড়ির গ্রাহক হয়েছেন।

রাজশাহীতে যে কেবল বাসাবাড়িতেই খড়ির ব্যবহার বাড়ছে তা নয়, স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁতেও এর ব্যাপক কদর রয়েছে। বিশেষ করে মৃত আমগাছ ছাড়াও শিশু, মেহগনি, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছের খড়ির চাহিদা সবচাইতে বেশি। আড়ৎদার মাহবুবুল আলম জানান, এসব খড়ি দিয়ে শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি করা হচ্ছে এবং সাধারণ ক্রেতারাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাঠের খড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

একই সাথে খড়ির বাজারে এই গতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটির ব্যবসা। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কালাই রুটি তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরেই খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, কারণ আধুনিক গ্যাসের চুলায় এই রুটি তৈরি সম্ভব নয়।

নগরীর কোর্ট ভবনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে কালাই রুটি বিক্রি করে আসা খাইরুন নেছা জানান, প্রতি মণ খড়ি ৬০০ টাকা দরে কিনে তাঁকে রুটি তৈরি করতে হয়। গ্যাসের চড়া দামের কারণে এখন তাঁর মতো সাধারণ মানুষদেরকেও খড়ির ওপর বেশি ভরসা করতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উন্নয়ন ও আধুনিকতার সময়ে এসে সাধারণ মানুষের এভাবে কাঠের খড়ির ওপর নতুন করে নির্ভরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে জ্বালানি সুবিধার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে বিকল্প জ্বালানির এই কৃত্রিম বাজার আরও প্রসারিত হবে, যা জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস