রাজশাহী বিভাগে ৯ মাসে ২৩৩ হত্যা মামলা: জননিরাপত্তায় উদ্বেগের ছায়া
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষের জেরে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৩৩টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই প্রথম ছয় মাসে বিভাগে ১৮৩টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আরও ৫০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এছাড়া অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে বিভাগে নতুন করে আরও আটটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।
বিভাগের বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জমি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, পূর্বশত্রুতা এবং আকস্মিক সংঘর্ষ। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বাকবিতণ্ডা বা বিরোধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনছে।
রাজশাহী মহানগরসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১১ অক্টোবর নগরীর কেদুর মোড় এলাকা থেকে এক ৭০ বছর বয়সী নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই রাতে পবা উপজেলার খড়খড়ি কমলাপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাঁশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্যে রয়েছে—মার্চ মাসে কর্ণহার থানা এলাকায় পরিচিত এক শিশুর হাতে শিশু আদিব আহনাফ খুন; ১১ আগস্ট বেলপুকুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আবদুল করিম হত্যা; ১২ আগস্ট রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে রিকশাচালক পলাশ খুন; ১৬ সেপ্টেম্বর বাঘা উপজেলায় কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধে স্বামীর হাতে জুসি বেগম খুন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর মোহনপুরে তুচ্ছ কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের হাতে মা খুন হওয়ার ঘটনা।
এছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর নগরীর লক্ষ্মীপুরে টাকা ভাঙতি না দেয়ার জেরে দোকানে পেট্রোল বোমা মেরে ও কুপিয়ে মুদি দোকানি আবদুল বারীকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। রাজশাহী ছাড়াও বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানেও এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, রাজশাহীতে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সফল হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, বিভাগের বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বা ক্ষোভের বশে ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিটি ঘটনার পরই পুলিশ তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।











