নগরীতে ৪৫ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে আলোচনা, নবমীতে ধর্মসভা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার: আর মাত্র দুই দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড় দেয়া, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক কাজ নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকেরা। এর মধ্যে নগরীর ‘টাইগার সংঘ’-এর ৪৫ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। পাশাপাশি আগামী ২০ অক্টোবর মহানবমীর দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রাজশাহী ধর্মসভা’ পরিদর্শনে আসতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।
সনাতন পঞ্জিকা মতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘটকে এবং গমন হবে নৌকায়। শঙ্খধ্বনি, ঢাক-কাঁসরের বাদ্য আর পুরোহিতদের মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে মুখরিত হতে চলেছে পুরো রাজশাহী। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী টাইগার সংঘের আয়োজনেও।
সংঘটির ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার তারা ৪৫ ফুট উচ্চতার বিশেষ দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। প্রতিমা শিল্পী এতে এনেছেন অনন্য বৈচিত্র্য—দেবী দুর্গার অবয়ব ৪৫ ফুট রাখা হলেও পরিবারের অন্যান্য দেব-দেবীর অবয়ব স্বাভাবিক আকৃতিতেই রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রমী ও চোখধাঁধানো এই প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে এখন থেকেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, রাজশাহী একটি সম্প্রীতির শহর। এখানে সব ধর্মের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় উৎসবকে সমান মর্যাদা দেয়। অতীতেও কখনো এখানে ধর্মীয় উৎসব ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, এবারও অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্গাপূজা সামনে রেখে সম্প্রতি রাজশাহী ধর্মসভা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা। তিনি জানান, আগামী ২০ অক্টোবর (নবমীর দিন) যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী ধর্মসভা পরিদর্শনে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অশোক কুমার সাহা আরও উল্লেখ করেন, এবার পূজামণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ পরিমাণ সরকারি অনুদান দেয়া হয়েছে এবং পুরোহিতেরা নিয়মিত মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। এই মানবিক সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, এবার রাজশাহী মহানগরীতে ৮৫টি এবং জেলার ৮টি উপজেলায় ৩৮১টিসহ সর্বমোট ৪৬৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলাগুলোর মধ্যে বাগমারায় সর্বোচ্চ ৮৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া তানোর ও বাঘায় ৫৯টি করে, পুঠিয়ায় ৫৬টি, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ৪২টি করে, মোহনপুরে ২৪টি এবং দুর্গাপুরে ২৩টি মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে কাজ করছেন আয়োজক ও স্থানীয় প্রশাসন।











