ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ - ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলনের প্রত্যাশা

  • আপডেট: Monday, September 28, 2026 - 10:20 pm

সোনালী ডেস্ক: কয়েক দিন আগেও যে আমন খেতের মাটি ছিল ফেটে চৌচির, বৃষ্টির পানিতে সেই মাঠেই এখন ফিরেছে স্বস্তি। শুকিয়ে যাওয়া জমিতে জমেছে প্রয়োজনীয় পানি। সতেজ হয়ে উঠেছে আমন ধানের সবুজ পাতা। কোথাও ধানের শিষ দুলছে বাতাসে, কোথাও আবার চলছে শীষ বের হওয়ার প্রস্তুতি। দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে আমন নিয়ে কৃষকের যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে তা অনেকটাই কেটেছে। কমেছে সেচের বাড়তি খরচের চাপ। এখন ভালো ফলনের আশায় খেতের যত্ন নিচ্ছেন কৃষকেরা।

চারঘাট প্রতিনিধি জানান, চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনখেত ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে ফিরেছে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধান গাছগুলোও যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবুজ হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ মাঠ। কৃষকেরা বলছেন, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।

উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের গাছও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। ধানগাছও সতেজ হয়ে উঠেছে। এভাবে আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।

চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে সেই আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধানের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমিতে জমে না থাকে, সেদিকেও কৃষকদের নজর রাখতে হবে।

চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে আর্দ্রতা ফিরেছে, যা ধানের জন্য উপকারী। তিনি আরও বলেন, এ সময়ে কৃষকদের নিয়মিত ধানখেত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক সময়ে পরিচর্যা করা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

এদিকে রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন রোপা-আমন ধান গাছের সবুজ রংঙের বর্ণিল সমারহ। চলতি রোপা-আমন মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করছে চাষিরা। শেষ মূহুর্তে তেমন কোন রোগ-বালাই দেখা না দিলেও কৃষকরা আমন ধানের ক্ষেতে নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় রোপা-আমন ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছেন।

রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে  রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সর্ব শেষ প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান লাগানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে চারা লাগানো নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি আফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সঠিক সময়ে চারা লাগানো পরামর্শ, নিবিড় পর্যবেক্ষন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সার সংকট না থাকা, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং আধুনিক পদ্ধিতিতে এবং রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখার জন্য ইতিমধ্যে কৃষকদের সচেতন করতে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাণীনগর উপজেলায় রোপা-আমন ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।