ঢাকা | অগাস্ট ২৪, ২০২৬ - ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

খননকাজে চরম অবহেলা: রাজশাহী রেলস্টেশনে পাইপ ফেটে ড্রেনে বিপুল পরিমাণ ডিজেল

  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 10:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী রেলস্টেশনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ করার সময় দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার একপর্যায়ে ডিপোর মূল সরবরাহ পাইপলাইন ফেটে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ড্রেনে ছড়িয়ে পড়ে।

গত শনিবার বিকেলে স্টেশনের ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকা ও তেল ডিপোর পাশে মাটি কাটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের আনুমানিক ধারণা ও দাবি অনুযায়ী, ড্রেন দিয়ে প্রায় ১০ হাজার লিটারের মতো ডিজেল ভেসে গেছে। তবে স্থানীয়দের এই দাবির বিপরীতে রেল কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে কত লিটার ডিজেল অপচয় হয়েছে বা সরকারি আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।

এসময় স্থানীয় এলাকাবাসীদের ড্রেন থেকে বালতি এবং জগের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। জানা গেছে, ট্রেনের ইঞ্জিন ও পাওয়ার কারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য স্টেশনের ওই ডিপোতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ডিজেল মজুত রাখা হয়। সেখানে একটি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার লিটার।

৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নতুন কাজের অংশ হিসেবে ‘ঢাকার রুবেল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করার সময় মাটির গভীরে থাকা লাইনটি কেটে ফেলে। মাটির নিচে অতিসংবেদনশীল জ্বালানি পাইপলাইন থাকার পরও যথাযথ নকশা পর্যবেক্ষণ কিংবা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া কীভাবে এই কাজ চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পশ্চিম রেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এআইডব্লিউ) ইমরান হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কাজের সময় দুর্ঘটনাবশত পাইপটি কেটে গিয়েছিল। তবে বিষয়টি জানা মাত্রই দ্রুত চেক ভালভ বন্ধ করে ডিজেল পড়া ঠেকানো হয়েছে।

মাটির নিচে পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি চলতি মাসেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। ফলে মাটির নিচে কোন দিক দিয়ে পাইপ গেছে, সেটির নকশা আমার জানা ছিল না।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ খননকাজ চালানো এবং দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পশ্চিম অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। অপচয়ের প্রকৃত পরিমাণ জানতে পশ্চিম রেলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।