ঢাকা | অগাস্ট ২৩, ২০২৬ - ১১:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্কুল মাঠ ভরাট করা হচ্ছে বয়লারের গরম ছাঁই দিয়ে

  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 10:40 pm

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: চালু থাকা চালকলের বয়লারের চুলো থেকে লম্বা হাতলওয়ালা আঁকড়া দিয়ে বের করে আনা হচ্ছে প্রচন্ড গরম ছাঁই। সেগুলো বাইরে এনে জমা করা হচ্ছে রাস্তায়। সেখান থেকে বেলচা দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে খোলা ট্রাক্টরযোগে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে পরিবহণ করা হচ্ছে এক কিলোমিটার দূরে।

রাস্তায় দুধারে গরম ছাঁই বাতাসে উড়ে অন্য যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে, পড়ে থাকছে সড়কের দুপাশেও। ছাঁইগুলো নিয়ে গিয়ে ফেলা হচ্ছে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে, একদম ক্লাস চলাকালিন সময়ে। সেখান থেকেও বাতাসে উড়ছে ছাঁই। ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।

রোববার দুপুরে এরকমই দৃশ্য দেখা গেল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে। আখেড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শিউলী চালকল থেকে ছাঁই নিয়ে ফেলা হচ্ছিল জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে ছাঁইগুলো। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের মাঠের বেশিরভাগ অংশে ছাঁই দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানটায় অল্প কিছু জায়গায় ফেলা হয়েছে বিট বালু।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানালেন, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য এক লক্ষ সতের হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রকল্পের চেয়ারম্যান।

জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম হোসেন জানালেন, তিনি প্রকল্পে ৮ ড্রামট্রাক বালু ফেলেছেন। বয়লারের ছাঁইগুলো তিনি বিনা পয়সায় এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছেন। এ ছাঁইগুলো প্রকল্পের আওতাভূক্ত নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভীত কাটার অতিরিক্ত মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়। এখন ভীতের পাশের গর্ত পূরণ করা হচ্ছে ছাঁই দিয়ে। বয়লারের ছাঁই দিয়ে মাঠ ভরাটের ফলে মাটির বেয়ারিং ক্যাপাসিটি কমবে। পরে ওই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ দূর্বল হবে। সংশ্লিষ্ঠদের দাবি প্রকল্পে বরাদ্দকরা টাকার অর্ধেকও খরচ করা হয়নি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এসব অস্বিকার করেছেন।

স্থানীয় পরিবেশবিদরা বয়লারের উড়ন্ত ছাঁইদূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় বয়লারের ছাঁই চোখে পড়ে অনেকেই দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে ছাঁই ফেলা কোনক্রমেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবেনা। তারা ওই বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা ছাঁই সরিয়ে ফেলে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান।