ঢাকা | অগাস্ট ২৪, ২০২৬ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পদ্মার ‘মিনি সুইজারল্যান্ডে’ পর্যটকের ঢল: নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশ দূষণে উদ্বেগে চরবাসী

  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 10:22 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নদীর নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ সবুজ আর মেঠো বাতাসের টানে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মিডলচরে’ এখন প্রতিদিন জমছে হাজারো মানুষের আনাগোনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সৌন্দর্যের কারণে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই চরে প্রতিদিন ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা।

তবে এই অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন উন্মাদনা স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আবাসন ও কৃষিজমিতে অনধিকার প্রবেশ, ড্রোন ক্যামেরায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হরণ এবং বর্জ্য ফেলার কারণে চরম নিরাপত্তার অভাব ও পরিবেশগত হুমকিতে দিন কাটাচ্ছেন চরের মানুষ।

নগরীর মির্জাপুর মিজানের মোড় ডগার ঘাট থেকে নৌকাযোগে মাত্র ১০-১২ মিনিটে পৌঁছানো যায় এই চরে। ইজারাদার ও স্থানীদের মতে, প্রতি শুক্রবার এই চরে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার মানুষ উপস্থিত হন। সাধারণ দিনগুলোতেও এই সংখ্যা ৫০০ থেকে ৮০০ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু অবাধে মানুষের চলাচলের কারণে স্থানীয় নারী ও শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক দর্শনার্থী পানি পান করা বা ঘোরার অশুভ অজুহাতে সোজা ঘরে ঢুকে পড়ছেন। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ড্রোনের উপদ্রব। ঘরের ওপর দিয়ে ড্রোন ওড়ানোর ফলে নারীদের স্নান, ছাদবিহীন শৌচাগার ব্যবহারসহ গৃহস্থালি কাজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। চরের প্রবীণ ও সাধারণ অধিবাসীরা জানান, তারা পর্যটন বিরোধী নন, তবে পরিবার ও মা-বোনদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

পর্যটনের প্রভাবে কেবল বসতবাড়ির নিরাপত্তাই নয়, চরের প্রধান জীবিকা কৃষি ও পশুপালনও বিপন্ন। কৃষকদের অভিযোগ, মাসকালাইয়ের জমিতে দর্শনার্থীদের পা পড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ও চিপসের মোড়ক যত্রতত্র ফেলার কারণে পশুর ঘাস খাওয়ার জায়গা দূষিত হচ্ছে, যা গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি নজরে এলে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন জানান, অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন তিনি।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন এবং নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন যৌথভাবে আশ্বাস দিয়ে জানান, স্থানীয়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। একইসঙ্গে পদ্মায় নৌযাত্রীদের সুরক্ষায় লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলকসহ মালাই-নৌকার চালকদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তরফ থেকেও প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে মিডলচরের পরিবেশ ও স্থানীয়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুশৃঙ্খল পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।