ঢাকা | অগাস্ট ২৪, ২০২৬ - ১:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পুঠিয়ায় অবৈধ ওষুধ-মালামালসহ দুজন গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 10:34 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, চোরাই মালামাল ও মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর এলাকায় এ অভিযান চালায় র‌্যাব-৫ এর এর সিপিএসসির একটি দল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ধোপাপাড়া মোহনপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (২৫) ও ধোপাপাড়া জিউপাড়া গ্রামের মিঠুন আলী (৩৩)। মিঠুন আলী ধোপাপাড়া বাজারে নিজের মুদি দোকান থেকে চোরাই ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রোববার দুপুরে র‌্যাব-৫ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে র‌্যাব জানতে পারে, ধোপাপাড়া বাজারের মিঠুন আলীর দোকানে ও ধোপাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন চোরাই মালামাল রয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিজানুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযানে তার বাড়ি থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ২০টি, নিউপোম্যাক্স ফিলগ্রাস্টিম বিপি ৩০ এমইউ/০.৫ মিলিলিটার ইনজেকশন ১৯টি, জেনিম সেফেপিম ১ গ্রাম ইনজেকশন ২১টি, ডিডি নীল পাউডার ১০০ গ্রাম ২৪টি প্যাকেট, মনোলোরিন ওয়াটার সলিউবল পাউডার ৯৮টি, রাইজিম ৫০ ডব্লিউপি ৮০ প্যাকেট, লিজেন্ড বোরন বোরিক অ্যাসিড ১৩ প্যাকেট, উইন রান ব্রেক অয়েল ছয়টি বোতল, বায়োমিন একোয়াবিউস্ট ছয় প্যাকেট, রাইজেব ৭২ ডব্লিউপি আট প্যাকেট, জিসমো ভেট সিরাপ ১৮ বোতল এবং নেটসুল ৮০ ডব্লিউডিজি ১৮ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া চার প্যাকেট কালো রঙের পিন, দুই প্যাকেট কালো রঙের ইউনিফর্মের কাপড়, তিনটি বড় সুতার গুটি, দুই জোড়া গামবুট, ২৪ কেজি টিপ বোতামযুক্ত স্বচ্ছ পলিপ্যাক, চার্জারসহ একটি এইচপি কোর আই-৫ ল্যাপটপ, বিভিন্ন কোম্পানির ১৮২টি মোবাইল সিমকার্ড এবং ৩৮৯ পাতা মোবাইল রিচার্জ কার্ড উদ্ধার করা হয়। রিচার্জ কার্ডগুলোর প্রতিটির মূল্য ২৯ টাকা এবং প্রতি পাতায় ১০টি করে কার্ড থাকায় মোট মূল্য ১ লাখ ১২ হাজার ৮১০ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অভিযানে বিভিন্ন কোম্পানির পাঁচটি বাটন মোবাইল ফোন, চার্জারসহ একটি নীল রঙের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন মিনি কাট-অফ টুল এবং দুটি হাতুড়িও উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুঠিয়ার ধোপাপাড়া বাজারে মিঠুন আলীর নিজের মুদি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকান থেকে চুরি করা ৩৯৯ লিটার ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল এবং ৪৯৮ পিস রুটা রেস ১০০ মিলিলিটার যৌগবর্ধক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, মিঠুন আলী এসব চোরাই মালামাল তার দোকান থেকে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। আর মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আন্তজেলা চোরচক্র বিভিন্ন সময়ে সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন কৌশলে চলন্ত ট্রাক থেকে মালামাল চুরি করে পরে সেগুলো বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব জানায়, অবৈধ ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।