ঢাকা | অগাস্ট ২২, ২০২৬ - ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

সার সঙ্কটে দিশেহারা রাজশাহীর কৃষকেরা

  • আপডেট: Friday, August 21, 2026 - 10:06 pm

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও জমি পরিচর্যার চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে সারের তীব্র সঙ্কট। সারের খোঁজে এক ডিলারের দুয়ার থেকে অন্য ডিলারে ছুটছেন প্রান্তিক চাষিরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না বেশিরভাগ কৃষক, অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। আর এই কৃত্রিম সঙ্কটকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের বিক্রয়কেন্দ্রে সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র এবং তথ্য পাওয়া গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্লাম সাংবাদিকদের জানান, টানা দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাক্সিক্ষত সার পাননি তিনি। কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করলেও নিজের এলাকায় ইউরিয়া পাননি। পরে দেওপাড়ায় এসে মাত্র ২০ কেজি সার বরাদ্দের কথা শুনে হতাশ হয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফেরেন।

একই চিত্র পবার ভিমের ডাইং ও গোদাগাড়ীর কদমশহর এলাকায়; সেখানকার কৃষক হারুন অর রশিদ ও রাশিদুল ইসলাম ডিএপি ও ইউরিয়া সারের তীব্র অভাবের কথা জানান। চারঘাটের ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে দেখা যায় টিএসপি সারের জন্য হুড়োহুড়ি। সেখানে ২ বস্তার চাহিদার বিপরীতে চাষিদের মাত্র ১৫ থেকে ২৫ কেজি করে সার বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। ডিলারের কর্মচারীরা জানান, ১০ মেট্রিক টন টিএসপির মধ্যে অবশিষ্ট থাকা ২৯ বস্তা সার সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংকটের সুযোগে চরম অরাজকতা চলছে দামে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে ১ হাজার ৫০ টাকা সরকারি মূল্যের ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কেজিপ্রতি ৩৪ টাকা দরে ডিএপি বিক্রির কথা স্বীকারও করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারের সরবরাহে স্পষ্ট ঘাটতি দেখা গেছে। চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন ইউরিয়ার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন।

এছাড়া ডিএপি ২,৬৪৭ টনের জায়গায় এসেছে ২,১৮২ টন, টিএসপি ১,৫১১ টনের স্থলে ১,২৪০ টন এবং এমওপি ১,৭৬০ টনের বিপরীতে মিলেছে ১,৪৯৬ টন। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের পাশাপাশি ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টরের বেশি পুকুরে মাছ চাষের জন্য প্রচুর সার ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সীমিত কৃষি বরাদ্দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

সার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ঘাটতির কথা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং পাচার বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অবৈধ মজুদের দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।