ঢাকা | অগাস্ট ২২, ২০২৬ - ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী মেডিকেলের চক্ষু বিভাগে ৪ মাস ধরে রোগী ভর্তি বন্ধ

  • আপডেট: Friday, August 21, 2026 - 10:07 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে গত প্রায় চার মাস ধরে সাধারণ রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে চোখের জটিল রোগে আক্রান্ত সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

বাধ্য হয়ে জরুরি অস্ত্রোপচার ও জটিল চিকিৎসার জন্য তাদের ছুটতে হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসকদের ব্যক্তিমালিকানাধীন চেম্বারে, যাতে গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চক্ষু বিভাগের জন্য নির্ধারিত মূল ওয়ার্ডের একটি অংশ ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীদের স্থানান্তরের কারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া গত প্রায় দুই মাস ধরে চক্ষু বিভাগের প্রধান অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) চলছে সংস্কারকাজ। ফলে কেবল একটি ছোট (মিনি) অপারেশন থিয়েটারে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে জরুরি অস্ত্রোপচারগুলো চালানো হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখে রোগীদের বেড খালি পড়ে রয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে দেখা গেছে, রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে রামেকে অন্যান্য বিভাগে নাভিশ্বাস উঠলেও চক্ষু বিভাগের সিংহভাগ বেডই শূন্য। নারী ও পুরুষের দুটি আলাদা ওয়ার্ডে বর্তমানে মাত্র ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন (পুরুষ ১০ জন ও নারী ৫ জন)। তাদের বেশিরভাগই পুরোনো রোগী এবং অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন। বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভর্তি প্রয়োজন হলেও সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা বাইরে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ভর্তি হয়েও অস্ত্রোপচারের সিরিয়াল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী সাংবাদিকদের জানান, ১৫ দিন আগে ভর্তি হলেও ওটি সংস্কারের অজুহাতে তার অপারেশন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অপর এক নারী সেবাপ্রার্থী জানান, ২০ দিন আগে চোখের যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো অস্ত্রোপচারের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ তাকে দেয়া হয়নি। এতে সেবা না পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। দ্রুত বিকল্প উপায়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবার বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আমিনুর রশীদ আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান, বড় ওটির সংস্কারকাজের কারণে মিনি ওটিতে সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ জন জরুরি রোগীর অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে এবং জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে ভর্তি নেয়া হচ্ছে।

এদিকে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইচ্ছে করে ভর্তি বন্ধ রাখা হয়নি, ওটি সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই পুরোদমে সেবা চালু হবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় সরকারি হাসপাতাল বাদ দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার কোনো অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।