ঢাকা | অগাস্ট ২২, ২০২৬ - ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: ব্রেটো সূচক ৬০ পার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

  • আপডেট: Friday, August 21, 2026 - 10:05 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মশার ঘনত্বের ওপর পরিচালিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর একাধিক এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সূচক অনুযায়ী বর্তমানে রাজশাহী ডেঙ্গুর অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে অবস্থান করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, চলতি মাসের ৩ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত মহানগরীর কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় একটি বিশেষ জরিপ চালানো হয়। ওই পাঁচ এলাকার ৭৫টি বাসাবাড়ির তথ্য সংগ্রহ করে ২৪টিতেই মিলিয়ে দেখা গেছে এডিস মশার লার্ভা। এছাড়া পরীক্ষা করা ৬৮টি জমা পানির পাত্রের মধ্যে ৪৬টিতেই ক্ষতিকর মশার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংগৃহীত ৬৮৫টি লার্ভার মধ্যে ৫০৫টিই ছিল ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ এবং ৮৬টি ‘এডিস ইজিপ্টি’ প্রজাতির।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বাসাবাড়ির ফুলের টব, প্লাস্টিক ও সিরামিকের ফেলা দেওয়া সামগ্রী, নারকেলের খোসা, ড্রাম, নির্মাণাধীন ভবনের ভেজা মেঝে এবং রঙের বালতিতে জমে থাকা পানিতে সবচেয়ে বেশি প্রজনন ঘটছে এই ডেঙ্গু বাহকের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে রাজশাহীতে ব্রেটো সূচক ছিল ৩০.৬৬। তবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সেই সূচক দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.৩৩-এ। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেটো সূচক ২০ ছাড়িয়ে গেলেই সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা জোরদারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে লার্ভা নিধন ও মশার বসতি ধ্বংস না করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, এডিসের বাড় বাড়ন্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও। জুন মাসে যেখানে হাসপাতালে মাত্র একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছিলেন, সেখানে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি মাসের ১১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, রোগী বাড়লেও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে। তবে মূল প্রতিকার লুকিয়ে আছে সচেতনতায়; বাসাবাড়ির চারপাশে পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান উপায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।