ঢাকা | অগাস্ট ২০, ২০২৬ - ১০:২৫ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ধস

  • আপডেট: Thursday, August 20, 2026 - 10:08 pm

নেপথ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা:

সোনালী ডেস্ক: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হলেও এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)।

ক্যাম্পাসে মানসম্মত আবাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক ভর্তি প্রক্রিয়ায় নানাবিধ জটিলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ধারাবাহিকভাবে কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমনকি সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সেকশনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে ৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন (ফার্মাসিতে ২ জন ও ভেটেরিনারিতে ১ জন)।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১ জন ভর্তি হলেও তিনি পরবর্তীতে পড়াশোনা না চালিয়ে চলে যান। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষেও স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী আসেনি। পরবর্তী দুটি শিক্ষাবর্ষে সাময়িক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৮ জন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতকে ভর্তি হন, যাদের বড় একটি অংশ ছিল ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের। তবে এরপরই আবার ধস নামে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ১ জনে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। স্নাতক পর্যায়ে ধস নামলেও স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর গবেষণা পর্যায়ে কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

বর্তমানে রাবিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৬ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন (জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে ২, ভেটেরিনারিতে ৩ এবং কেমিস্ট্রিতে ১ জন)। এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে সোমালিয়া ও ভারতের ৬ জন গবেষক অর্থনীতি, ফোকলোর, ইতিহাস ও আরবি বিভাগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমার পেছনে মূলত সুযোগ-সুবিধার অভাব ও জটিল প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। নেপাল থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই।

ফলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেকে ভর্তি হয়েও ফিরে যান। এর পাশাপাশি ভিসা পাওয়ার জটিলতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাবকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করলে আগ্রহ বাড়ত। ভর্তি সংক্রান্ত কাগজের জটিলতা ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা)

অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানান, বিদেশি আবেদনকারীদের সনদের স্পষ্টতা না থাকা একটি বড় সমস্যা। কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠালে যাচাই সহজ হয়।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার্থীদের মতো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না; বরং ফ্যাকাল্টিভিত্তিক নির্দিষ্ট গাইডলাইন পূরণ সাপেক্ষে বিভাগ গ্রহণ করলেই ভর্তি নেয়া হয়।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন আন্দোলনের প্রভাব শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার অন্যতম কারণ। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পুনরায় রাবিমুখী করতে একাডেমিক নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের চিন্তাভাবনা চলছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস