ঢাকা | অগাস্ট ২০, ২০২৬ - ১০:২১ অপরাহ্ন

রাকসুর ফান্ড বিতর্ক: ৬১ লাখ টাকার ভাউচার না দেয়ার প্রতিবেদন নিয়ে ভিপির ক্ষোভ

  • আপডেট: Thursday, August 20, 2026 - 9:54 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ড থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন এবং এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার ভাউচার জমা না দেয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তাঁর দাবি, রাকসুর হিসাব এখনো চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়নি। অসম্পূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাকসুকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত বুধবার বিকেলে নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানান তিনি। সম্প্রতি ‘রাকসুর সোয়া কোটি টাকা এবং আম্মারের ভাউচার সঙ্কট’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসু ফান্ড থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার কোনো ভাউচার জমা দেয়া হয়নি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রাকসুর ভিপি ও জিএসসহ অন্যান্য সম্পাদকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ভিপি জাহিদ।

পোস্টে তিনি লেখেন, প্রত্যেক ছাত্রসংসদের শেষ দিকে এসে সেটিকে ব্যর্থ ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। আমরা জানতাম, আমাদের মূল শক্তির জায়গা আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হবে। তাই আমরা সব হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুত রেখেছি। অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে তথ্য প্রচার পেশাদারিত্বের পরিপন্থী।

১ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলনের দাবিকে অসত্য আখ্যা দিয়ে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এত টাকা তোলার তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য। অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে রাকসুর সভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ কয়েক ধাপের অনুমোদন নিতে হয়। এখতিয়ারবহির্ভূত কোনো খাতে অর্থ ব্যয় হলে প্রক্রিয়াতেই বাধার সৃষ্টি হতো। সব বাজেটের অনুমোদিত নথিপত্র আমাদের কাছে রয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছতার চিত্র অডিটের পর স্পষ্ট হবে জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ছাত্রসংসদের মেয়াদ শেষে সরকারিভাবে অডিট সম্পন্ন হবে। সেই প্রতিবেদন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হবে। অডিটে এক টাকারও অনিয়ম ধরা পড়লে বা এখতিয়ারবহির্ভূত কোনো ব্যয়ের প্রমাণ মিললে, সেই টাকা আমরা ফেরত দিতে বাধ্য থাকব।

রাকসুর প্রতিনিধিরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন উল্লেখ করে ভিপি দাবি করেন, রাকসু প্রতিনিধিদের কারো পকেটে ১ টাকাও ঢুকেছে এমনটা অডিট রিপোর্টে প্রমাণ করা যাবে না। আমার দাপ্তরিক খরচের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও আমি তুলেছি মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা। সামগ্রিক খরচ ও দাপ্তরিক খরচের পার্থক্য অনুধাবন করা প্রয়োজন। এমনকি অনেক আয়োজনে রাকসুর ফান্ড ব্যবহারই করা হয়নি; যেমন ১২ লাখ টাকার ইফতার মাহফিলের পুরো ব্যয় অন্য উৎস থেকে সংস্থান করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আমানত রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ জানিয়ে ভিপি জাহিদ বলেন, আমাদের হিসাব এখনো বন্ধ হয়নি। শেষ হিসাবের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের প্রতিটি টাকা আমাদের কাছে আমানত। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, ১ বছরে রাকসুর এক টাকাও কারো ব্যক্তিগত পকেটে যায়নি। তাই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে লাভ হবে না।