ঢাকা | অগাস্ট ১৯, ২০২৬ - ১১:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজবাড়ি যাদুঘরে আয় ৪৫ লাখ, রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ৬০ লাখ

  • আপডেট: Wednesday, August 19, 2026 - 10:41 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী ও জাদুঘর দেখতে প্রতিবছর বাড়ছে দর্শনার্থী। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়ও। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আদায় বেড়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ হয়েছে। তবে আয় বাড়লেও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে আরও বেশি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। বিপরীতে আনসার, কাস্টডিয়ানদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৬০ লাখ টাকার বেশি।

পুঠিয়া রাজবাড়ী ও জাদুঘর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৫ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৫ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৫০ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদায় হয় ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৩ টাকা। কিন্তু এই আয়ের বিপরীতে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি ব্যয় আরও বেশি।

পুঠিয়ায় রয়েছে রাজবাড়ী, বড় গোবিন্দ মন্দির, রানী মহল ও রানীর ঘাট, ছোট আহ্নিক মন্দির, বড় শিব মন্দির, রথ মন্দির, দোল মন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ছোট গোপাল মন্দির, ছোট শিব মন্দির, হাওয়াখানা, কেষ্ট খ্যাপার মঠ, কিসমত মারিয়া মসজিদসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা। এসব স্থাপনা দেখতে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটক আসেন।

তবে সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে বর্তমানে শুধু পুঠিয়া রাজবাড়ী থেকেই টিকিটের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। বাকি ১৬টি স্থাপনা দেখতে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হয় না। অথচ এসব স্থাপনার নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে আনসার ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

পুঠিয়া রাজবাড়ী জাদুঘরের কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান বলেন, পুঠিয়া ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে মোট ১৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজবাড়ী থেকেই সরকার রাজস্ব পাচ্ছে। বাকি ১৬টি স্থাপনাতেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এলেও সেখান থেকে কোনো রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সবগুলো স্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে টিকিটের ব্যবস্থা করা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে। সেই বাড়তি অর্থ দিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুঠিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সম্পদ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সব স্থাপনা থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা না থাকায় সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা পর্যটন ব্যবস্থার আওতায় এনে রাজস্ব আদায় ও সংরক্ষন দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তাঁদের। রাজস্ব আয় বাড়লেও যদি ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যয়ের ঘাটতি থাকে, তাহলে পুঠিয়ার শত বছরের এসব স্থাপনা কতটা নিরাপদ, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।