সিরাজগঞ্জে যুবদল নেতা হত্যায় স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে দীর্ঘ ১১ বছর পরে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি মনিরুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত থাকলেও নিহতের স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছেন। অপরদিকে, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও নিহতের স্ত্রীর ভাই পিয়াস হোসেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নিহত যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজনের স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি ও তার পরকীয়া প্রেমিক শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের বেলাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ইসলাম। তবে, এ রায় ঘোষণার পর নিহতের পরিবার ও স্বজনরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত প্রাঙ্গণে রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাদের দাবি, সুজনকে গলাকেটে হত্যা করা হলেও সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। তাছাড়া অপর দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। এতে তারা সঠিক বিচার পাননি বলে দাবি করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ১ জুন সন্ধ্যায় যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজনকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় সুজনের মা মাজেদা বেগম বাদি হয়ে ছেলের বউ তিথি ও তার ভাই পিয়াসের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরে উম্মে সালমা তিথি ও তার ভাই পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মনিরুল ও রাশেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে উম্মে সালমা তিথি ও মনিরুল আদালতে জবানবন্দি দেয়, তারা নিজেদের পরকীয়া প্রেমকে সার্থক করতে ঘুমন্ত সুজনকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে।











