ঢাকা | অগাস্ট ৩, ২০২৬ - ১:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • আপডেট: Sunday, August 2, 2026 - 10:06 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণা ফাঁদ পেতে বসেছে। সম্প্রতি বাগমারা উপজেলায় বেশ কয়েকটি এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলেও গ্রেপ্তার নেই। প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ।

গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাগমারা উপজেলার আলোকনগর (হামিরকুৎসা) গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (০১৮৬৩২৮৫৩৩৩) মোবাইল নম্বর থেকে কল করা হয়। আব্দুস ছোবহান বলেন, কল করে তাঁকে বলা হয়, আমরা পুলিশ প্রশাসনের লোক আপনার ছেলে মাদক মামলায় আটক হয়েছে। তাকে মুক্ত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকাশে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন।

এসময় প্রতারক চক্র মোবাইলে ছেলের পরিচয়ে একজনের কান্নার শব্দ শুনাইয়া ভয়ভীতি ও আতংকের মধ্যে ফেলেন। আমি সরল বিশ্বাসে উক্ত নম্বরে ২৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠায়। কিন্তু পরক্ষণেই জানতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ছেলেকে কেউ আটক করেনি। এ ঘটনায় আমি বাগমারা থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনো প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়নি পুলিশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একই কায়দায় গত ২৯ জুলাই বাগমারা উপজেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সবুজ হোসেন (২৬) প্রতারণার শিকার হন। পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও ফাঁদে ফেলে সেমিস্টার ফি’র সম্পূর্ণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সবুজ হোসেন রাজশাহীর স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশকাল ও ফেসবুক পেজ ওবিসি নিউজ-এর একজন কর্মরত সাংবাদিক এবং রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সবুজ হোসেন গত বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতারণার দুঃখগাঁথা তুলে ধরেন। রাজশাহীতে  সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জমানো টাকা ফেরত পাওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ব্যক্তি সবুজকে প্রতারণার জালে ফেলে নগদ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা তদন্তের অজুহাতে মোবাইলে বিশেষ কিছু গোপনীয় কোড (টঝঝউ ঈড়ফব) চাপতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে সবুজ নির্দেশিত কোডগুলো ডায়াল করেন। কোড চাপার পরপরই তার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় ৩০ হাজার টাকা। সবুজ জানান, প্রতারণার শিকার হওয়া এই ৩০ হাজার টাকা ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি। সম্প্রতি রাজশাহী শহরেরই একটি নগদের দোকান থেকে অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবার থেকে পাঠানো এই টাকাটি জমিয়ে রেখেছিলেন তিনি। জীবনের জমানো সব টাকা হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব ও দিশেহারা।

সবুজ হোসেন বলেন, আমি এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি। এসব ঘটনা ঘটার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বাগমারার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, এক শ্রেণির প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে প্রতারণা চালানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে অনেকে টাকা পয়সা হারানোর ঘটনা ঘটছে। পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। অচিরেই তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে।