জুলাই মাসে রাজশাহীতে ১৮ নারী ও শিশু নির্যাতিত
স্টাফ রিপোর্টার: বিদায়ী জুলাই মাসে রাজশাহী জেলায় অন্তত ১৮ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন ও অমানবিক ঘটনার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা ‘লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ (লফস)-এর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ডকুমেন্টেশন সেলের প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে লফস জানায়, অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি নানা মাত্রায় রূপ নিচ্ছে। যৌতুক, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের কারণে অধিকাংশ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়ালের নেতিবাচক প্রভাব এবং প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে হত্যা, আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।
সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে জেলাজুড়ে মোট ১৮ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হন। এর মধ্যে ৪ জন গণধর্ষণ, ১ জন ধর্ষণ চেষ্টা, ১ জন বলাৎকার এবং ১ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ১ জন হত্যা, ২ জন হত্যাচেষ্টা, ৪ জন শারীরিক নির্যাতন এবং ৪ জন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিতদের মধ্যে ৮ জন শিশু এবং ১০ জন নারী।
প্রতিবেদনে বিদায়ী মাসের আলোচিত কিছু ঘটনার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, চারঘাট উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি চারঘাটের আরজিসাদীপুরে সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং পুঠিয়ার জিউপাড়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। অন্যদিকে গোদাগাড়ীর জাহানাবাদ চাত্রাপুকুর গ্রামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হন।
যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে পবার বড়গাছী এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন, বাঘার মিলিকবাঘায় ২য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার এবং পলিটেকনিক্যালের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। পবার নওহাটা বাজারের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টা, গোদাগাড়ীর রেলবাজারে শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং বাঘায় বাসচালক কর্তৃক ৬০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী নারী নির্যাতনের শিকার হন।
হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনায় জানা যায়, পবার হরিয়ান ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশের স্ত্রী ফরিদা খাতুনকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া চারঘাট ও মতিহারে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, বাঘায় বিষপানে এক গৃহবধূর আত্মহত্যা এবং দুর্গাপুরে দিশারানী মহন্ত নামে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। পবার লাউবাড়িয়া ও তালগাছি এলাকায় দুই গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে প্রেমে রাজি না হওয়ায় পদ্মায় ফেলে মেরে ফেলার হুমকি ও মারধর করার অভিযোগ উঠে।
লফসের নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক ঘটনা থেকে যায় যা লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকে। রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত এই তথ্য অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধ মাত্রা চরম আকার ধারণ করবে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











