ঢাকা | অগাস্ট ১, ২০২৬ - ১১:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে রাজশাহীর মাছ দেশে-বিদেশে

  • আপডেট: Saturday, August 1, 2026 - 10:22 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নিজস্ব চাহিদা পূরণের সীমানা পেরিয়ে রাজশাহী বিভাগের উৎপাদিত মাছ এখন ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশের বাজারে। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২৫টি জেলায় প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে এখানকার ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ। এমনকি প্রক্রিয়াজাত মাছের এক বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে সীমানা ছাড়িয়ে ভারতেও। রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ দেশীয় প্রজাতির এই বিপুল মাছ চাষকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক নীরব বিপ্লব।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৬ জন মৎস্যচাষি। বিভাগে বছরে মোট ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন মাছ পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে কার্পজাতীয় মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে নাটোর ও নওগাঁ শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও তাজা মাছ পরিবহনে বড় ভূমিকা রাখছে রাজশাহী। প্রতিদিন বিকেল থেকে ভোররাতের মধ্যে বিভাগ থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাকে করে জীবিত মাছ দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে কেবল রাজশাহী জেলা থেকেই ছাড়ে দুই শতাধিক ট্রাক। জেলাটির পবা উপজেলার পারিলা গ্রাম থেকেই প্রতিদিন অন্তত ৫০ ট্রাক তাজা মাছ যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ প্রক্রিয়ায় ট্রাকে করে অক্সিজেনযুক্ত পানিতে জীবিত মাছ সরবরাহ করায় বাজারে রাজশাহীর মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ পরিবহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে এই অঞ্চলে। অন্যান্য দানাদার ফসলে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় চাষিরা বাণিজ্যিক পুকুর খননে ঝুঁকছেন। মৎস্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, পূর্বে কেবল রাজশাহীতে মিশ্র পদ্ধতিতে (রুইয়ের সঙ্গে কাতলা, সিলভার কার্প ও দেশি ছোট মাছ) মাছ চাষ হলেও এখন তা পুরো বিভাগজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া পাবদা, শিং, কই ও মাগুর মাছের বাণিজ্যিক চাষের পরিধিও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীর পাবদা মাছ নিয়মিত ভারতে রপ্তানি হচ্ছে।

কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে মৎস্য অধিদফতর বছরে দেড় হাজারের বেশি চাষিকে আধুনিক চাষাবাদ ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে চাষিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাছের খাবারের (ফিড) মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশ বেড়েছে। পোল্ট্রি বা মৎস্য খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে এই খাতটি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।