ঢাকা | অগাস্ট ২, ২০২৬ - ১:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নে রাজশাহীতে স্থানীয় পর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত

  • আপডেট: Saturday, August 1, 2026 - 10:32 pm

স্টাফ রিপোর্টার: মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন (খসড়া) প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে স্থানীয় পর্যায়ের একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার  নগরীর একটি হোটেল অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস-এর অর্থায়নে পরিচালিত নাগরিকতা কর্মসূচির আওতায় এনগেজ নাও প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করে অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এনগেজ নাও প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রোকনুজ্জামান। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন (খসড়া) বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের মতামত, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ সংগ্রহ করা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সনাক রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস, দৈনিক সোনালী সংবাদ-এর সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাদারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান দিল সেতারা চুনি, পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন।  অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসিডি প্রোগ্রাম  ম্যানেজার মো. মনিরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, মানবাধিকার কর্মীরা সমাজে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর, সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ড সম্মত আইন প্রণয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় বাস্তবতা এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানবাধিকার কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, হয়রানি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন। তারা প্রস্তাবিত খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে গঠনমূলক সুপারিশ প্রদান করেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, আইনটিতে মানবাধিকার কর্মীর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অযৌক্তিক হয়রানি প্রতিরোধ, দ্রুত প্রতিকার ব্যবস্থা, কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আইন বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাদের অভিমত, স্থানীয় বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হলে আইনটি আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন (খসড়া) প্রণয়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে। এসব সংলাপ থেকে প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশ আইনটির চুড়ান্ত খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশে মানবাধিকার কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।